ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটা শুরু হয়েছিল প্রতিবাদ দিয়ে, আর শেষও হল নীরব প্রতিবাদেই। টসের সময় পাকিস্তান অধিনায়ক সলমন আলি আঘার সঙ্গে হাত মেলাননি ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। খেলা শেষে একই দৃশ্য—ভারতীয় ক্রিকেটাররা পাক দলের সঙ্গে করমর্দন না করেই সাজঘরে ফিরে গেলেন।

১২৮ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে ২৫ বল বাকি থাকতেই জয় তুলে নেয় ভারত। পাকিস্তান কোনো প্রতিরোধই গড়তে পারেনি। মাঠেই যেন জবাব দিলেন সূর্যেরা। শেষটা হয় সূর্যের ছক্কায়—৪৭ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি, সঙ্গে ছিলেন শিবম দুবে। দু’জন নিজেদের মধ্যে হাত মিলিয়ে সাজঘরের পথে হাঁটেন। দুই আম্পায়ারের সঙ্গেও করমর্দন করেন তাঁরা। কিন্তু পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সঙ্গে নয়।

খেলা শেষে দেখা যায়, সলমনের নেতৃত্বে পাক দলের খেলোয়াড়রা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। কিন্তু ভারতীয় দল মাঠে আসেনি। সাজঘরে বসেই উল্লাস করছিলেন সূর্যরা। এমনকি পাক খেলোয়াড়রা যাতে তাঁদের ড্রেসিংরুমে ঢুকতে না পারেন, সেই জন্য দরজাও বন্ধ করে দেন ভারতীয়রা।

সম্প্রচারকারী চ্যানেল সেই দৃশ্য না দেখিয়ে বিজ্ঞাপন প্রচার শুরু করেছিল। তবে বিষয়টি এড়িয়ে যায়নি সমর্থকরা। অনেকেই বলছেন, এটা ছিল ভারতের নীরব প্রতিবাদ।

ম্যাচ চলাকালীন বলিউড অভিনেত্রী রবিনা ট্যান্ডন সমাজমাধ্যমে লিখেছিলেন, “আশা করছি, আমাদের ক্রিকেটাররা কালো আর্মব্যান্ড পরবেন এবং হাঁটু গেড়ে শ্রদ্ধা জানাবেন।” যদিও ভারতীয়রা তা করেননি। তবে পাকিস্তানিদের সঙ্গে কোনো সম্মানও বিনিময় করেননি। বুঝিয়ে দিয়েছেন, সূচি অনুযায়ী খেলছেন, সম্পর্ক রাখতে চান না।

উল্লেখযোগ্য বিষয়, পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলা ও ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর এটাই ছিল ভারত-পাকিস্তানের প্রথম মুখোমুখি লড়াই। ম্যাচ ঘিরে আগেই উত্তাপ ছড়িয়েছিল। অনেকেই ম্যাচ বয়কটের দাবি তুলেছিলেন। তবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড জানায়, বড় প্রতিযোগিতায় পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলতে কোনো সমস্যা নেই।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সম্পর্কের কারণে এশিয়া কাপেও এই ম্যাচ ছিল বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। গত মাসে ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অফ লেজেন্ডসে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলতে অস্বীকার করেছিল ভারত। কিন্তু এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল ও আইসিসি আয়োজিত টুর্নামেন্টে খেলতে আপত্তি নেই। হয়তো সেই কারণেই মাঠে নেমেছেন সূর্যেরা। তবে শুরু আর শেষে যে প্রতিবাদের ছবি দেখা গেল, সেটাই সবচেয়ে বড় বার্তা।

 

Walton Ads