আবু ধাবির জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে রশিদ খানের লেগ স্পিন আর গুগলির ঘূর্ণিতে বাংলাদেশ ব্যাটিং ধসে যাওয়ায় মাত্র ১০৯ রানে অল আউট হয়ে যায়। মাত্র ১৯১ রানের সহজ লক্ষ্য পাওয়ার পরও ব্যর্থ হয় টাইগাররা। এতে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ জিতে নেয় আফগানিস্তান।
মিরাজবাহিনী বোলিং করে আফগানদের ১৯০ রানে আটকে দিলেও বাংলাদেশ ব্যাটাররা তাদের লেগ স্পিনের জবাব দিতে পারেনি। ছোট লক্ষ্য পেয়েও রশিদের ঘূর্ণিতে ভুগে হার মানে বাংলাদেশের। এ সিরিজে আফগানিস্তান বাংলাদেশকে টানা তিনবার পরাজিত করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করল; ২০২৩ সালে বাংলাদেশের মাঠে, ২০২৪ সালে শারজাহ ও এবার আবুধাবিতে।
বাংলাদেশের ইনিংসে মাত্র ১৭ রানে ৫ উইকেট নেন রশিদ খান। ওয়ানডেতে এটি তার ষষ্ঠ ৫ উইকেট, যা স্পিনারদের মধ্যে মুত্তিয়া মুরালিধরন (১০) এবং শহিদ আফ্রিদি (৯)-এর পর সর্বোচ্চ। এছাড়া আজমতউল্লাহ ওমরজাই ৩ উইকেট নেন।
বাংলাদেশ প্রথম ওভারে তানজিদ হাসান তামিমকে হারায়। পরে সাইফ হাসান কিছুটা লড়াই করেন, কিন্তু বেশি টিকে থাকতে পারেননি। একপ্রান্ত আগলে তাওহিদ হৃদয় দলকে এগিয়ে নেবার চেষ্টা করেন, কিন্তু ২৪ রান করে রশিদের বলে বোল্ড হয়ে যান। এরপর শুরু হয় বাংলাদেশের ধস। শেষ পর্যন্ত মাত্র ১০ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৮.৩ ওভারে ১০৯ রানে অল আউট হয় টাইগাররা।
আফগানিস্তান প্রথমে ব্যাট করতে নেমে হোচট খায়। গুরবাজ, অতল এবং রহমত শাহের মতো ব্যাটাররা পাওয়ার প্লে-তে আউট হন। ৭৯ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর ইব্রাহিম জাদরান ও মোহাম্মদ নবী হাল ধরার চেষ্টা করেন, কিন্তু বড় জুটি গড়ে তুলতে পারেননি। ইব্রাহিম একাই দলের স্কোর তোলার চেষ্টা করেন, কিন্তু ৯৫ রানে বোল্ড হন। শেষ দিকে ১৮ বলে ২২ রান করে এএম গাজানফার কিছুটা স্বস্তি আনে।
আফগানিস্তানের ইনিংস ৪৪.৫ ওভারে ১৯০ রানে শেষ হয়। বাংলাদেশের বোলিংয়ে সাকিব ২ উইকেট নেন, মিরাজ ৩ উইকেট নেন।
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান: হৃদয় ২৪, সাইফ ২২, জাকের ১৮। আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ রান: ইব্রাহিম ৯৫।
আফগানিস্তান: ১৯০ (৪৪.৫ ওভার; ইব্রাহিম ৯৫, নবী ২২, গাজানফার ২২)
বাংলাদেশ: ১০৯ (২৮.৩ ওভার; হৃদয় ২৪, সাইফ ২২, জাকের ১৮)
ফল: আফগানিস্তান ৮১ রানে জয়ী