আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ হেরে হতাশ বাংলাদেশ দল। বিশেষ করে ব্যাটিং ব্যর্থতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ। তিনি মনে করেন, টাইগার ব্যাটারদের আরও ধৈর্যশীল হতে হবে এবং ভালো টেম্পারামেন্টে খেলতে হবে।
দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আগে ব্যাট করে আফগানিস্তান ৪৪.৫ ওভারে অলআউট হয় ১৯০ রানে। বোলারদের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট থাকলেও, ব্যাটিংয়ে নামার পর বাংলাদেশ ইনিংস ধসের মুখে পড়ে। একের পর এক উইকেট হারিয়ে দল গুটিয়ে যায় মাত্র ১০৯ রানে, ২৮.৩ ওভারে।
বিশেষ করে রশিদ খানের লেগ-স্পিনের সামনে একেবারে অসহায় ছিল বাংলাদেশের ব্যাটাররা। মাত্র ১৭ রান খরচায় ৫ উইকেট তুলে নেন রশিদ। তার শিকার হন তাওহীদ হৃদয়, নুরুল হাসান সোহান, তানজিম হাসান সাকিব, রিশাদ হোসেন ও তানভির ইসলাম।
তাছাড়া আজমতউল্লাহ ওমরজাইও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন। এই পেসার তুলে নেন তানজিদ হাসান তামিম, সাইফ হাসান ও মেহেদী মিরাজের উইকেট।
বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ২৪ রান করেন তাওহীদ হৃদয়। ওপেনার সাইফ হাসান করেন ২২। এ ছাড়া জাকের আলী ১৮ ও নুরুল হাসান ১৫ রান করলেও বাকি সবাই দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে হতাশা লুকাননি মুশতাক আহমেদ। তিনি বলেন,
“আমাদের দলে সাতজন ব্যাটার আছে, সবাই ভালো। কিন্তু ভালো হতে হলে ধৈর্য ধরতে জানতে হবে, টেম্পারমেন্ট ধরে রাখতে হবে। রশিদের মতো স্পিনারের বিপক্ষে এক রান করে স্ট্রাইক ঘোরানো, সোজা খেলার কৌশল জানতে হবে। যত বেশি সোজা খেলবেন, তত বেশি সুবিধা পাবেন।”
নিজের অভিজ্ঞতার উদাহরণ দিয়ে সাবেক পাকিস্তানি লেগ-স্পিনার বলেন,
“আমি জানি, যখন দেখি কেউ সোজা খেলছে, উইকেট শুকনো—তখন আমি নিজেই রান দিয়ে ফেলি ম্যাচ থামাতে গিয়ে। আমাদের ব্যাটারদের এটা বুঝতে হবে। একের পর এক ডট বল খেলে গেলে বড় শট মারার সুযোগই আসে না, তখনই উইকেট হারায়।”
ওয়ানডে ক্রিকেটকে তিনি ‘৫০ ওভারের মিনি টেস্ট’ হিসেবে দেখার পরামর্শ দেন,
“এই ফরম্যাটে জানতে হবে কখন আক্রমণ করতে হবে, কখন ডিফেন্স করতে হবে, কোন বোলারকে টার্গেট করতে হবে, আর কাকে সম্মান দিতে হবে। যত বেশি বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে খেলবে, তত উন্নতি করবে দল।”
বাংলাদেশের ব্যাটারদের জন্য এ বার্তাই যেন মুশতাকের নতুন পাঠ—ধৈর্যই এখন সাফল্যের চাবিকাঠি।