নয়াদিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যাট হাতে দাপট দেখাল টিম ইন্ডিয়া। দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে ৫ উইকেটে ৫১৮ রান তুলে প্রথম ইনিংস ডিক্লেয়ার ঘোষণা করেছেন অধিনায়ক শুভমন গিল। আর এই ইনিংসের নায়ক নিঃসন্দেহে তরুণ ওপেনার যশস্বী জয়সওয়াল, যিনি ২৫৮ বলে ২২টি চার মেরে খেলেছেন এক দুরন্ত সেঞ্চুরি ইনিংস।
দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ব্রায়ান লারার সঙ্গে দেখা হয় জয়সওয়ালের। কিংবদন্তি ক্যারিবিয়ান ব্যাটার তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে মজার ছলে বলেন, “আমাদের বোলারদের এত কষ্ট দিও না!” — জয়সওয়ালের বিনয়ী জবাব, “আমি শুধু চেষ্টা করছি, স্যার।”
২৩ বছর বয়সী এই বাঁহাতি ব্যাটার দুর্ভাগ্যজনকভাবে ডাবল সেঞ্চুরি থেকে বঞ্চিত হন। অধিনায়ক শুভমন গিলের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট হয়ে সাজঘরে ফিরতে হয় তাকে।
ম্যাচ শেষে বিসিসিআই প্রকাশিত ভিডিওতে জয়সওয়াল বলেন,
“আমি সবসময় দলের কথাই আগে ভাবি। উইকেট ও ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে ব্যাট করি। শুরুটা ভালো হলে সেটিকে বড় ইনিংসে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করি।”
দ্বিতীয় উইকেটে সাই সুদর্শনের সঙ্গে ১৯৩ রানের দারুণ পার্টনারশিপ গড়েন জয়সওয়াল। সুদর্শনের ৮৭ রানের ইনিংসের প্রশংসা করে তিনি বলেন,
“আমরা ঠিক করেছিলাম, যদি সেট হয়ে যাই, তাহলে ইনিংসটা বড় করব। স্ট্রাইক ঘুরিয়ে রাখব। সে দারুণ খেলেছে।”
এরপর তৃতীয় উইকেটে গিলের সঙ্গে ৭৪ রানের জুটি গড়েন তিনি। গিল নিজেও খেলেছেন দুর্দান্ত ইনিংস—১৯৬ বলে ১৬টি চার ও ২টি ছক্কায় ১২৯ রান। তার সঙ্গে নীতিশ কুমার রেড্ডি ও ধ্রুব জুরেলও যোগ করেন মূল্যবান রান (প্রত্যেকে ৪০ করে)।
শেষ পর্যন্ত ভারত ৫১৮ রানে ইনিংস ঘোষণা করে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চাপে ফেলে দেয়। জবাবে ক্যারিবিয়ানরা প্রথম ইনিংসে অলআউট হয় ২৪৮ রানে।
ফলো-অন এড়িয়ে যেতে না পারায় দ্বিতীয় ইনিংসে আবার ব্যাট করতে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তেজনারাইন চন্দ্রপল ও জন ক্যাম্পবেল শুরুটা ভালো করলেও বেশি দূর যেতে পারেননি। মোহাম্মদ সিরাজের এক ছোট লেংথের বলে পুল করতে গিয়ে তেজনারাইন ধরা পড়েন শুভমন গিলের হাতে (১০)। অল্প সময় পর ওয়াশিংটন সুন্দরের বলে অ্যালিক অ্যাথানাজ (৭) বোল্ড হন। তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর ২ উইকেটে ৩৫, ইনিংস হার বাঁচাতে দরকার আরও ২৩৬ রান।
ভারতের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই টেস্টে এখন একটাই প্রশ্ন—ওয়েস্ট ইন্ডিজ কতক্ষণ টিকে থাকতে পারবে টিম ইন্ডিয়ার আগুনে বোলিং আক্রমণের সামনে?