ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার মোহাম্মদ কাইফ অবশেষে মুখ খুললেন বিরাট কোহলির আইপিএল ভবিষ্যৎ নিয়ে। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি) ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে কোহলির নতুন চুক্তি না হওয়ায় ভক্তদের মধ্যে জল্পনা ছড়িয়ে পড়েছিল—তিনি কি তবে আইপিএল থেকে অবসর নিচ্ছেন?

বুধবার কাইফ স্পষ্ট জানালেন, কোহলি বেঙ্গালুরু কখনও ছাড়ছেন না। বরং তিনি আগেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে আইপিএলের প্রথম ও শেষ ম্যাচ দুটোই খেলবেন শুধু আরসিবির হয়ে।

“বিরাট কোথাও যাচ্ছেন না” — কাইফের দৃঢ় ঘোষণা

ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় কাইফ বলেন,
“লোকজন বলছে বিরাট বাণিজ্যিক চুক্তিতে সই করেননি, তাই হয়তো অবসর নেবেন। কিন্তু আমি বলছি, তিনি এমন কিছু করছেন না। তিনি বেঙ্গালুরুর ভক্তদের কাছে কথা দিয়েছেন—প্রথম ও শেষ ম্যাচ দুটোই খেলবেন এই দলের হয়ে। বিরাট নিজের কথা থেকে কখনও পিছিয়ে আসবেন না।”

কাইফ আরও ব্যাখ্যা দেন, বিরাটের চুক্তি সইয়ে দেরি হওয়ার পেছনে থাকতে পারে ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা পরিবর্তনের কারণ।
“আরসিবির মালিকানা হয়তো নতুন হাতে যেতে পারে। সেই কারণে কোহলি অপেক্ষা করছেন—নতুন মালিকরা কীভাবে দল পরিচালনা করবেন, তা দেখেই তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।”

ডিয়াজিওর মালিকানা বদল ঘিরে অনিশ্চয়তা

বর্তমানে আরসিবি পরিচালনা করে ব্রিটিশ কোম্পানি ডিয়াজিও পিএলসি, যারা ভারতের ইউনাইটেড স্পিরিটসের মাধ্যমে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি নিয়ন্ত্রণ করে। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিয়াজিও এখন তাদের এই অংশীদারিত্ব বিক্রি করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। এই পরিবর্তনই হয়তো কোহলির সিদ্ধান্তে বিলম্ব ঘটাচ্ছে।

“আরসিবি জিতছে, কারণ দলে কোহলি আছে”

কাইফ আরও বলেন, “বিরাট এখনই কেবল খেলা শুরু করেছে। এবারের মৌসুমে আরসিবি প্রথমবারের মতো ট্রফি জিতেছে, আর সেই জয়ের নেপথ্যে ছিল কোহলির ৬৫০ রানের ইনিংস। তিনি দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, আরসিবি এখন তার হাতেই সাফল্যের পথে।”

কোহলি ও আরসিবির অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক

২০০৮ সালে আইপিএলের প্রথম আসর থেকেই বিরাট কোহলি বেঙ্গালুরুর জার্সিতে খেলছেন। ২০২৫ সালে অবশেষে তিনি প্রথমবার আইপিএল ট্রফি জেতেন—ফাইনালে পাঞ্জাব কিংসকে ছয় রানে হারিয়ে। এর আগে ২০১৬ সালের ফাইনালে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের কাছে হারতে হয়েছিল কোহলির দলকে।

সব মিলিয়ে, এখনই অবসর নয়—বরং নতুন উদ্যমে আবারও মাঠে নামতে যাচ্ছেন বিরাট কোহলি, ঠিক সেই বেঙ্গালুরুর হয়েই, যার সঙ্গে তিনি ক্রিকেটজীবনের সবচেয়ে বড় অধ্যায়টা লিখেছেন।

 

Walton Ads