বাংলাদেশ শেষ চার ওয়ানডে সিরিজ—আফগানিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান—সবকটিতেই হেরেছে। সম্প্রতি আফগানদের কাছে হোয়াইটওয়াশ হয়ে আবুধাবি থেকে দেশে ফিরেছেন মেহেদী হাসান মিরাজরা।
৫০ ওভারের ক্রিকেটে ছন্দ হারাচ্ছে বাংলাদেশ। তবু ঘরের মাঠে খেলা হওয়ায় সতর্ক ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগে প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামি জানালেন, তাদের কেউই স্বাগতিকদের হালকাভাবে নিচ্ছেন না।
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ও অভিজ্ঞতা:
২০১১ সালে প্রথমবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে বাংলাদেশে খেলতে এসেছিলেন স্যামি। অবসর নেওয়ার আগে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে মিলিয়ে ২০ ম্যাচ খেলেছেন। জাতীয় দলের বাইরেও বিপিএলে রংপুর রাইডার্স ও রাজশাহী কিংসের হয়ে খেলেছেন।
২০১৭ সালের পর বিপিএলে খেলা হয়নি স্যামির। তবে জাতীয় দলের পাশাপাশি বিপিএলে খেলার সুবাদে বাংলাদেশকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছেন সাবেক এই অলরাউন্ডার। এবার কোচ হিসেবে এসেছেন তিনি। সিরিজ শুরুর আগে জানালেন, বাংলাদেশে তার অনেক দারুণ স্মৃতি আছে।
স্যামি বলেন,
“বাংলাদেশে আসা সবসময়ই আনন্দের। এবার ভিন্ন ভূমিকায় এসেছি, আশা করি এখানে খেলার অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে। ড্রেসিং রুমে অনেক ছেলের ওয়েস্ট ইন্ডিজ বা বিপিএলে খেলার অভিজ্ঞতা আছে। আমাদের ভালো খেলতে হবে।”
সিরিজ ও র্যাঙ্কিং:
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৮০ রেটিং পয়েন্ট, আইসিসির ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে ৯ নম্বরে। বাংলাদেশ ৭৪ পয়েন্ট নিয়ে ঠিক নিচেই। সিরিজটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ২০২৭ সালে সাউথ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার সুযোগের জন্য সিরিজের ফলাফলের প্রভাব পড়বে।
স্যামি বলেন,
“আমরা সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনের জন্য আছি। ঘরের মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ জিততে হলে আমাদের সেরা ক্রিকেট খেলতে হবে। তারা ঘরের মাঠে সবসময় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়। আমাদের দুর্দান্ত খেলতেই হবে।”
বাংলাদেশের ছন্দহীনতা:
শেষ ১২ মাসে খেলা ১৪ ওয়ানডের মাত্র দুইটি ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ। গত নভেম্বর-ডিসেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশের পরও, স্যামি মনে করেন, ঘরের মাঠে বাংলাদেশকে হালকাভাবে নেওয়া যাবে না।
স্যামি শেষমেশ বলেন,
“দেখুন, তারা ঘরের মাঠে শক্তিশালী। কন্ডিশনগুলোও তাদের চেয়ে ভালো জানে। আমাদের তাদের হারাতে দুর্দান্ত খেলতেই হবে।”