অ্যাশেজ সিরিজের আগেই চাকরি হারাতে পারেন ইংল্যান্ডের সহকারী কোচ পল কলিংউড। তাঁর নেতৃত্বে ইংল্যান্ড ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিল। কিন্তু বর্তমানে যেসব অভিযোগ উঠেছে, তার প্রভাব অত্যন্ত বড়। মহিলাদের সঙ্গে যৌনালাপের কেচ্ছা, কর ফাঁকি এবং অন্যান্য বিতর্কের কারণে ইংল্যান্ড ক্রিকেটের মধ্যে কলিংউড কার্যত একাকী হয়ে পড়েছেন। ফলে অ্যাশেজের আগে তাঁর চাকরি যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল।
জানা যায়, ২০২২ সালে কলিংউড অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে যান। তৃতীয় টেস্টের পর তাঁর একটি ছবি ভাইরাল হয়, যেখানে বার্বাডোজের সমুদ্র সৈকতে এক মহিলার সঙ্গে চুম্বনরত অবস্থায় দেখা যায়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ঘটনাও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে।
প্রাক্তন সতীর্থ গ্রেম সোয়ান এক পডকাস্টে জানিয়েছেন, কলিংউডের একটি অডিও ক্রিকেটারদের মধ্যে ঘুরছে। প্রায় আড়াই ঘণ্টার ওই অডিওতে কলিংউডের সঙ্গে বেশ কয়েকজন মহিলার যৌনালাপের তথ্য রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। কলিংউড এই অডিওর বিরোধিতা করেননি। সোয়ান বলেন, “কলিংউড এরকমই।”
ইংল্যান্ডের সাজঘরে কলিংউড নিজেকে অপছন্দের করে তুলেছেন। প্রধান কোচ ব্রেন্ডন ম্যাকালাম এবং ইসিবি কর্মকর্তারাও তাঁকে এখন আর চাইছেন না। ক্রিকেট জীবনে কলিংউডের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। ২০০৮ সালে তাঁর বিরুদ্ধে ১ লাখ ৯৬ হাজার পাউন্ড (প্রায় ২ কোটি টাকা) কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ আসে, যা আদালতে প্রমাণিত হয়। এছাড়া একাধিক স্পনসর সংস্থার সঙ্গে চুক্তি খেলাপের এবং প্রতারণার অভিযোগও রয়েছে।
২০০৭ সালের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ম্যাচের একদিন আগে কেপটাউনের একটি নৈশক্লাবে কয়েক ঘণ্টা কাটানোর কারণে ১০০০ পাউন্ড (প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা) জরিমানা করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে প্রাপ্তবয়স্কদের একটি ক্লাবের সদস্য হয়েও বিতর্ক তৈরি করেছেন কলিংউড।
কলিংউড ইংল্যান্ডের কোচ ম্যাকালামের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পরিচিত হলেও, এখন তাদের মধ্যে সম্পর্ক মেলেনি। সহকারী কোচ হিসেবে কলিংউডের ভূমিকায় খুশি নন ম্যাকালাম। তার দায়িত্ব ও আচরণ নিয়ে ক্রিকেটারদের মধ্যেও প্রশ্ন উঠেছে।