পাকিস্তানের সাবেক ওয়ানডে অধিনায়ক মোহাম্মদ রিজওয়ানকে দলের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তার জায়গায় এসেছেন শাহিন আফ্রিদি। একটি প্রতিবেদন এখন চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করেছে—রিজওয়ানের অপসারণের পেছনে তার জার্সিতে বাজি কোম্পানির প্রচারণা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত।

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) রাওয়ালপিন্ডিতে চলমান দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনের খেলা শেষে রিজওয়ানকে ওয়ানডে অধিনায়কত্ব থেকে সরানোর ঘোষণা দেয়। তার সতীর্থ পেসার শাহিন আফ্রিদিকে নতুন অধিনায়ক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

প্রধান কোচ মাইক হেসন ও নির্বাচক কমিটির বৈঠকের পর পিসিবি এই সিদ্ধান্ত নিলেও, সাবেক ক্রিকেটার ও ভক্তদের মধ্যে এ নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে।

রিজওয়ানের অপসারণের আসল কারণ কী?

রিজওয়ানের অধিনায়কত্ব হারানোর পর টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, তার জার্সিতে বাজি কোম্পানির প্রচারণা না করার সিদ্ধান্তই এর মূল কারণ।

পিসিবির একটি সূত্র টাইমসঅবইন্ডিয়া.কম-কে বলে, “রিজওয়ান পিসিবিকে জানিয়েছিলেন, তিনি বাজি কোম্পানির প্রচারণা করবেন না। এটাই তার অপসারণের প্রধান কারণ। তিনি পিসিবির সারোগেট বাজি কোম্পানির সঙ্গে সহযোগিতার বিরোধী ছিলেন।”

এমন ঘটনা রিজওয়ানের জন্য নতুন নয়। এ বছরের শুরুতে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস প্যাট্রিয়টসের হয়ে খেলার সময় তিনি বাজি কোম্পানির লোগো প্রচার করতে অস্বীকার করেন এবং প্রধান স্পনসরের লোগো ছাড়া জার্সি পরে খেলেন। সম্প্রতি পিসিবি বেশ কয়েকটি সারোগেট বাজি কোম্পানিকে স্পনসর হিসেবে নিয়েছে।

“ইসলামিক দেশে অ-ইসলামিক অধিনায়কের মানসিকতা খারাপ”—রশিদ লতিফ
একটি বড় ঘটনায়, পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক রশিদ লতিফ রিজওয়ানকে সমর্থন করে উত্তেজক মন্তব্য করেছেন। তিনি ক্রিকেটে ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এসেছেন।

তার ইউটিউব চ্যানেল ‘কট বিহাইন্ড’-এ লতিফ বলেন, রিজওয়ানকে ফিলিস্তিন নিয়ে মন্তব্য করার কারণে অধিনায়কত্ব থেকে সরানো হয়েছে। তিনি বলেন, “ইসলামিক দেশে অ-ইসলামিক অধিনায়ক নিয়োগের মানসিকতা খুবই খারাপ।” তিনি এটিকে রিজওয়ানের বাদ পড়ার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন, যিনি অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে সিরিজ জয়ের মাধ্যমে পাকিস্তানকে রেকর্ড গড়তে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

২০২৩ থেকে পাকিস্তানের অধিনায়কত্বে অস্থিরতা

২০২৩ সাল থেকে পাকিস্তানের অধিনায়কত্বে বারবার পরিবর্তন এসেছে। কোনো ফরম্যাটেই একজন খেলোয়াড়ের ওপর ভরসা করা হয়নি। ২০২৩ সালের শেষে বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার পর বাবর আজম তিন ফরম্যাটের অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ান।

শান মাসুদ টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে একমাত্র খেলোয়াড় যিনি এখনো পদে আছেন। টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব শাদাব খান, শাহিন আফ্রিদি, মোহাম্মদ রিজওয়ানের মধ্যে ঘুরেছে, এখন সালমান আঘার হাতে।

ওয়ানডেতে রিজওয়ান সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে সফল অধিনায়কদের একজন। ২০২৪ সালের অক্টোবরে বাবর আজম নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ালে তিনি অধিনায়ক হন।

 

Walton Ads