বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা যেমন অবাক, তেমনি অবাক হয়েছেন প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়রাও।
সুপার ওভারে ব্যাটসম্যান নির্বাচনে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত দেখে বিস্মিত হয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনার আকিল হোসেন।

 “যে খেলোয়াড় ম্যাচ ঘুরিয়ে দিল, তাকেই কেন পাঠানো হলো না?”

সংবাদ সম্মেলনে এসে আকিল বলেন,

“আমি সত্যি অবাক হয়েছি। যে খেলোয়াড় ১৪ বলে ৩৯ রান করে ম্যাচে তাণ্ডব চালাল, সে-ই সুপার ওভারে নেই!
সে লম্বা, বল ভালোভাবে পৌঁছাতে পারে, আর শর্ট সাইডে দারুণ শক্তিশালী।
সে যেভাবে দুইটা ছক্কা মেরেছে, আমরা সবাই ভেবেছিলাম ও নিশ্চয়ই সুপার ওভারে নামবে।
তাকে না দেখে আমরা অবাক হয়েছি — তবে সিদ্ধান্তটা আমাদের পক্ষেই গেছে।”

ওই মুহূর্তে মাঠের দর্শক থেকে টিভির পর্দা—সবখানেই ছড়ায় অবাক বিস্ময়।
অনেকেই ভাবছিলেন, রিশাদ হোসেন-ই হবেন বাংলাদেশের মূল অস্ত্র সুপার ওভারে,
কিন্তু টিম ম্যানেজমেন্টের অদ্ভুত সিদ্ধান্তে তিনি বসে থাকেন ডাগআউটে।

 রাত চারটায় ঢাকায় এসে ম্যাচজয়ী আকিল

প্রথম ম্যাচে দলে ছিলেন না আকিল হোসেন।
ওয়ানডে স্কোয়াডেও জায়গা পাননি তিনি।
কিন্তু শামার জোসেফ ইনজুরিতে ছিটকে পড়ার পর তড়িঘড়ি করে তাকে ঢাকায় উড়িয়ে আনে টিম ম্যানেজমেন্ট।

আকিল বলেন,

“রাত চারটায় হোটেলে উঠেছি। এরপর সরাসরি ম্যাচে।
শরীরে তখন কিছুই অবশিষ্ট ছিল না, কিন্তু এটা আমার কাজ।
খেলার প্রতিজ্ঞা যখন করেছি, তখন শতভাগ দিতে হবেই।”

শরীর ক্লান্ত হলেও মনোবল ছিল তুঙ্গে—এবং সেই মানসিক দৃঢ়তাই এনে দেয় ম্যাচজয়।

 টিভি দেখে ভেবেছিলেন ‘কালার নষ্ট’

প্রথম ম্যাচে দর্শক হয়ে খেলাটি দেখেছিলেন আকিল।
সে অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে হেসে ফেললেন নিজেই—

“প্রথম ম্যাচে বাড়িতে বসে টিভিতে খেলা দেখছিলাম।
মনে হচ্ছিল টিভির কালারে সমস্যা!
পরে বুঝলাম, সমস্যা টিভিতে নয়—পিচটাই এত কালো ছিল!”

এই ম্যাচে হঠাৎ ডাক পেয়ে এসে নিজের ঘূর্ণিতে বাজিমাত করলেন আকিল হোসেন।
আর বাংলাদেশের ‘সুপার ওভার রহস্যে’ তিনি কেবল হতবাকই নন—
বরং খোলাখুলিভাবেই জানালেন, “ওই ভুলটাই আমাদের ম্যাচ জিতিয়েছে!”

 

Walton Ads