ঢাকার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সোমবার ২১ অক্টোবর বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে এক অভূতপূর্ব কীর্তি গড়ল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
রস্টন চেজের নেতৃত্বে ক্যারিবীয়রা ইতিহাসের প্রথম দল, যারা একটানা পুরো ৫০ ওভার শুধু স্পিনার দিয়েই বোলিং সম্পন্ন করল।
একটাও পেসার নয়, পুরো ইনিংস স্পিনে!
ওয়েস্ট ইন্ডিজ একাদশে ছিলেন পেসার জাস্টিন গ্রিভস, কিন্তু তাকে একবারও বোলিংয়ে ব্যবহার করা হয়নি।
স্পিন নির্ভর বোলিং আক্রমণে বাংলাদেশকে ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২১৩ রানে থামিয়ে দেয় সফরকারীরা।
ঢাকার টার্নিং পিচে স্পিনাররা দারুণ বোলিং করেন। সবচেয়ে সফল ছিলেন গুডাকেশ মটি, যিনি ৬৫ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট।
আকিল হোসেন ও আলিক অথানাজে নেন ২টি করে উইকেট।
রিশাদের তাণ্ডব, মেহেদির ঠান্ডা মাথা
বাংলাদেশের ইনিংসে ওপেনার সৌম্য সরকার করেন ৪৫ রান, কিন্তু ইনিংসের শেষ দিকে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন রিশাদ হোসেন।
তিনি মাত্র ১৪ বলে ৩৯ রানের ঝড় তোলেন, যাতে ছিল ৩টি ছক্কা ও ৩টি চার!
রিশাদ অপরাজিত থেকে গড়েন ৫০ রানের অষ্টম উইকেট জুটি অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজের সঙ্গে, যিনি খেলেন ৫৮ বলে ৩২ রানের শান্ত ইনিংস।
তাদের ব্যাটেই ভর করে বাংলাদেশ লড়াকু স্কোর দাঁড় করায় ২১৩।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ঐতিহাসিক স্পিন বোলিং বিশ্লেষণ
বোলার ওভার মেডেন রান উইকেট
আকিল হোসেন 10 1 41 2
রস্টন চেজ 10 2 44 0
খারি পিয়েরে 10 0 43 0
গুডাকেশ মটি 10 0 65 3
আলিক অথানাজে 10 3 14 2
এই ইনিংসের মাধ্যমে ২০০৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার করা ৪৪ ওভারের স্পিন বোলিং রেকর্ড ভেঙে দিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
ধাক্কা সামলে লড়াইয়ে বাংলাদেশ
বাংলাদেশ টস জিতে ব্যাটিং নেয়। শুরুতে সৌম্য সরকারের ব্যাটে আসে কিছু আক্রমণাত্মক শট, তবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় দল।
টোহিদ হৃদয় ও শান্ত ব্যর্থ হন, অথানাজের বলে ফেরেন দুজনই।
৩১তম ওভারে সৌম্য আউট হলে স্কোরবোর্ডে তখন ১২৮/৬।
এরপর মেহেদি ও নুরুল হাসানের ৩৫ রানের জুটিতে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায় দল।
নুরুল করেন ২৩ রান (২৪ বলে), যাতে ছিল ২ চার ও ১ ছক্কা।
সিরিজে টিকে থাকতে মরিয়া ক্যারিবীয়রা
প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের কাছে ৭৪ রানে হেরে পিছিয়ে ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
তাই ঢাকায় এই ম্যাচ ছিল সিরিজে টিকে থাকার লড়াই।
অবিশ্বাস্য স্পিন আক্রমণ ও শৃঙ্খলিত বোলিংয়ে তারা নতুন ইতিহাস গড়ে নিজেদের ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছে।