ভারতের দুই ক্রিকেট মহাতারকা বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মা—দু’জনেই ফিরলেন হতাশা নিয়ে!
অস্ট্রেলিয়ার পার্থে প্রথম ওয়ানডেতে দু’জনই ব্যর্থ, আর তাতেই শুরু হয়েছে সমালোচনার ঝড়। সাবেক অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি গ্লেন ম্যাকগ্রাথ একধাপ এগিয়ে বলেছেন,
“ভারতীয় তারকারা নিজেদের ‘ফ্ল্যাট ট্র্যাক বুলিজ’ প্রমাণ করলেন। অস্ট্রেলিয়ার বাউন্সি উইকেটে টিকতেই পারলেন না।”
পার্থে ‘ফ্লপ’ বিরাট ও রোহিত
প্রথম ওয়ানডেতে পার্থের বাউন্সি উইকেটে রোহিত শর্মা করেন মাত্র ৮ রান, আর বিরাট কোহলি আউট হন শূন্যতে।
তাদের শিকার করেন অস্ট্রেলিয়ার দুই পেস তারকা— মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজলউড।
এ ছিল প্রায় সাত মাস পর তাদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন। এতদিন পর মাঠে নেমে এমন পারফরম্যান্সে হতাশ ভক্তরা।
মাত্র তিনটি প্র্যাকটিস সেশন, যথেষ্ট নয়
রোহিত ও বিরাট দুজনই ভারতের ওয়ানডে ফরম্যাটের স্তম্ভ। মিলে-মিশে তারা খেলেছেন ৫৭৭টির বেশি ওয়ানডে, আর করেছেন ২৫ হাজারেরও বেশি রান।
কিন্তু এত অভিজ্ঞতা নিয়েও ছন্দহীন ছিলেন দুজনই।
তারা শেষ ওয়ানডে খেলেছিলেন মার্চে—আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে, যেখানে ভারত নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ট্রফি জেতে।
তারপর সাত মাসের বিরতি, আর মাত্র তিনটি নেট সেশন নিয়ে নামেন পার্থে—ফলটা স্পষ্টই দেখা গেল।
ম্যাকগ্রাথের বিশ্লেষণ: ‘অস্ট্রেলিয়ান বাউন্সের ফাঁদে ধরা’
ম্যাকগ্রাথ বলেন,
“রোহিত ও বিরাট দারুণ খেলোয়াড়, কিন্তু পার্থের উইকেট তাদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা ছিল। বাড়তি গতি আর বাউন্সে তারা ব্যাকফুটে আটকে গিয়েছিলেন। এই কন্ডিশনে অনেক ভিন্নভাবে খেলতে হয়।”
তিনি আরও যোগ করেন,
“তারা এতদিন শুধু আইপিএল খেলেছে, যেখানে পিচ পুরোপুরি সাবকন্টিনেন্ট টাইপ। সেখানে বল নিচু থাকে, কিন্তু অস্ট্রেলিয়ায় বল অনেক বেশি উঠে আসে।”
ম্যাকগ্রাথের মতে, এই পার্থক্যই দুই তারকার বিপর্যয়ের মূল কারণ।
অ্যাডিলেডে নতুন লড়াই, বিশ্বকাপের আশা এখনো বেঁচে
ভারতীয় দল এখন পাড়ি দিয়েছে অ্যাডিলেডে, দ্বিতীয় ওয়ানডের প্রস্তুতির জন্য।
রোহিত ও বিরাট দুজনেই অনুশীলনে ব্যস্ত—চোখ এখন ২০২৭ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে জায়গা পাকা করার দিকে।
অস্ট্রেলিয়া সফর শেষে ভারত আবারও মাঠে নামবে নিজেদের ঘরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নভেম্বরে।
তাই এই দুই সিনিয়রের জন্য আসন্ন ম্যাচগুলো একেবারেই গুরুত্বপূর্ণ।