টানা দুই ম্যাচে শূন্য রানে আউট (ডাক)! এরপর চারিদিকে শুরু হয়েছিল বিরাট কোহলিকে নিয়ে হুলস্থুল— অনেকেই বলা শুরু করেন, তিনি নাকি ফুরিয়ে গেছেন। কেউ কেউ তো জাতীয় দলে তার ক্যারিয়ারের শেষ দেখে ফেলেছিলেন! তবে এমন সমালোচনার জবাব দিতে খুব বেশি সময় নিলেন না ডানহাতি এই ব্যাটার। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে দুর্দান্ত এক ফিফটি করে দলের জয় নিশ্চিত করে তবেই মাঠ ছেড়েছেন কোহলি। তবে ভারতের এই ঐতিহাসিক জয়ের আসল নায়ক কিন্তু কোহলি নন, দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি হাঁকানো রোহিত শর্মা।
সিডনিতে এদিন টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ২৩৬ রান তুলতেই সবকটি উইকেট হারিয়ে অলআউট হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। জবাবে ভারত মাত্র ৯ উইকেট হাতে রেখেই অনায়াসে জয় তুলে নেয়। অবশ্য প্রথম দুটি ম্যাচ জেতায় সিরিজের ট্রফি উঠেছে অস্ট্রেলিয়ার হাতেই।
রান তাড়া করতে নেমে সফরকারী ভারতকে এক দুর্দান্ত শুরু এনে দেন রোহিত শর্মা ও শুবমান গিল জুটি। পাওয়ারপ্লেতে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের ওপর আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে চড়াও হন তারা। তবে বড় ইনিংস খেলতে পারেননি গিল। তিনি ২৬ বলে ২ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় করেন ২৪ রান।
তবে গত ম্যাচে ৭৩ রানে আউট হওয়া রোহিত শর্মা এদিন ঠিকই তুলে নিয়েছেন সেঞ্চুরি। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটি তার ৩২তম সেঞ্চুরি। রোহিতকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন বিরাট কোহলি। মিচেল স্টার্ক-জশ হ্যাজলউডদের মতো বোলারদের কোনো পাত্তাই দেননি তারা, করেছেন সাবলীল ব্যাটিং।
দলের জয় নিয়ে তবেই মাঠ ছেড়েছেন রোহিত ও কোহলি। রোহিত শর্মা ১২৫ বলে ১৩ বাউন্ডারি ও ৩ ছক্কায় ১২১ রানে অপরাজিত ছিলেন। অন্যদিকে, বিরাট কোহলি ৮১ বলে ৭ বাউন্ডারিতে ৭৪ রানে অপরাজিত থেকে জয় নিশ্চিত করেন।
এর আগে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নামা অস্ট্রেলিয়াকে ভালো শুরু এনে দেন ট্রাভিস হেড ও মিচেল মার্শ। তবে কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি। ট্রাভিস হেড ২৫ বলে ২৯ রান করে ফিরে যান, আর মার্শের ব্যাট থেকে আসে ৫০ বলে ৫ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় ৪১ রান।
এছাড়া ম্যাথু শট, কুপার কনোলি ও অ্যালেক্স ক্যারি শুরুটা ভালো করলেও কেউ-ই বড় স্কোর করতে পারেননি। তবে ফিফটির দেখা পেয়েছেন ম্যাট রেনশ। তিনি ৫৮ বলে ২ বাউন্ডারিতে ৫৬ রান করেন। ভারতের হয়ে হার্ষিত রানা ৮.৪ ওভারে ৩৯ রান দিয়ে একাই ৪টি উইকেট শিকার করেন। দুটি উইকেট তুলে নেন ওয়াশিংটন সুন্দর।