নারী বিশ্বকাপে একটিও জয় না পাওয়ার হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর পাকিস্তান নারী দলের প্রধান কোচ মুহাম্মদ ওয়াসিমের চুক্তি নবায়ন করেনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড পিসিবি। বোর্ড চেয়ারম্যান মোহসিন নকভি নিজেই কোচের পারফরম্যান্সে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এখন বোর্ড বিদেশি কোচ নিয়োগের চিন্তা করছে, যাতে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও পরিকল্পনা আসে নারী ক্রিকেটে।

নারী দলের এবারের ওয়ানডে বিশ্বকাপ অভিযান ছিল একেবারে ভুলে যাওয়ার মতো। সাতটি ম্যাচে একটিতেও জিততে পারেনি পাকিস্তান। চারটি ম্যাচে হেরেছে, বাকি তিনটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়েছে। আট দলের মধ্যে সপ্তম স্থানে শেষ করেছে তারা, আর বাংলাদেশ যদি শেষ ম্যাচে জেতে, তাহলে পাকিস্তান আরও নিচে নেমে যেতে পারে।

‘অসন্তুষ্ট’ মোহসিন নকভির সিদ্ধান্তে বরখাস্ত ওয়াসিম
দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, পিসিবি চেয়ারম্যান মোহসিন নকভি নারী দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে অত্যন্ত হতাশ ছিলেন। বোর্ডের ভেতরের সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “চেয়ারম্যান নকভি দলে দৃশ্যমান কোনো উন্নতি না হওয়ায় এবং ওয়াসিমের অকার্যকর নেতৃত্বে সন্তুষ্ট নন।”

গত বছরই পাকিস্তান নারী দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পান সাবেক ক্রিকেটার মুহাম্মদ ওয়াসিম। কিন্তু তাঁর অধীনে দল ২০২৪ নারী এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কার কাছে হারে, আর নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চার ম্যাচে মাত্র একটিতে জয় পায় পাকিস্তান।

বিদেশি কোচ আনার চিন্তায় পিসিবি
ওয়াসিমের মেয়াদকালে পাকিস্তানের ব্যাটিং বিভাগ ছিল সবচেয়ে দুর্বল জায়গা। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সাবেক ব্যাটার হয়েও তিনি সেই দুর্বলতা কাটাতে পারেননি। পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বোর্ডের কয়েকজন কর্মকর্তা তাঁকে “কঠিন ও দুর্বোধ্য” হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যিনি খেলোয়াড়দের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ করতে পারেননি।

ফলে ওয়াসিমের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং দলের উন্নতি না হওয়ার কারণেই তাঁর চুক্তি নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নেয় পিসিবি। এখন বোর্ড বিদেশি কোচ নিয়োগের পরিকল্পনা করছে, যিনি নতুন চিন্তা ও কৌশল নিয়ে নারী ক্রিকেটে পরিবর্তন আনতে পারবেন। খুব শিগগিরই নতুন কোচের নাম ঘোষণা করতে পারে পিসিবি।

একটিও জয় ছাড়াই শেষ পাকিস্তানের বিশ্বকাপ যাত্রা
নারী বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অভিযান শুরু হয় বাংলাদেশের বিপক্ষে সাত উইকেটের পরাজয়ে। এরপর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে হারে ৮৮ রানে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কিছুটা লড়াই করলেও বেথ মুনির সেঞ্চুরিতে শেষ পর্যন্ত আর টিকতে পারেনি পাকিস্তান।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ইতিহাস গড়ার সুযোগ এসেছিল, কিন্তু বৃষ্টিতে সেই ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও খেলা হয়নি এক বলও, কারণ তীব্র বৃষ্টিতে ম্যাচ বাতিল হয়। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৫০ রানের বড় ব্যবধানে হারের পর শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও মাঠে নামতে পারেনি দলটি।

এই বিশ্বকাপের সময় পাকিস্তানের ম্যাচগুলো আয়োজন করা হয় নিরপেক্ষ ভেন্যুতে—ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে। রাজনৈতিক কারণে দুই দেশ শুধুমাত্র নিরপেক্ষ মাঠেই মুখোমুখি হয় আন্তর্জাতিক আসরে।

 

Walton Ads