বৈরুত: বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার (FIFA) সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে নাগরিকত্ব প্রদান করেছে লেবানন সরকার। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এই নাগরিকত্ব দেওয়ার বিষয়টি অনুমোদন করেন। বার্তা সংস্থা এএফপিকে এই খবর নিশ্চিত করেছেন লেবানন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (LFA) প্রধান হাশেম হায়দার।
লেবানন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এলএফএ) প্রধান হাশেম হায়দার জানান, প্রেসিডেন্ট ইতিমধ্যেই ইনফান্তিনোকে ডিক্রি (রাষ্ট্রীয় উচ্চপর্যায়ের আদেশ) জারি হওয়া এবং তা কার্যকর করার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে জানিয়েছেন।
নাগরিকত্বের কারণ: হায়দার বলেন, "ইনফান্তিনো এমন একজন মানুষ, যিনি লেবাননের জন্য অনেক কাজ করেছেন। সে কারণেই মূলত এই নাগরিকত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত।"
পারিবারিক যোগসূত্র: ৫৫ বছর বয়সী ইনফান্তিনো নিজে সুইস ও ইতালীয় নাগরিক হলেও তাঁর স্ত্রী লীনা আল-আশকার একজন লেবানিজ। লীনা আল-আশকার অতীতে এলএফএর সঙ্গেও কাজ করেছেন।
লেবানিজ চ্যানেল এলবিসিআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইনফান্তিনো তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করেছেন:
"আমি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নাগরিকত্ব পাইনি, তবে শিগগিরই পাবো। আমার খুবই ভালো লাগছে, আমি গর্বিত ও খুশি। বহু বছর ধরে আমি লেবানিজ। এবার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাওয়াটা সত্যিই আনন্দের।"
নাগরিকত্ব পাওয়ার এই আনন্দের মুহূর্তে লেবাননের ফুটবল উন্নয়নে নিজের পরিকল্পনার কথাও জানান ফিফা সভাপতি।
স্টেডিয়ামের প্রয়োজন: তিনি বলেন, "লেবাননের একটি আধুনিক ফুটবল স্টেডিয়াম দরকার। আমরা ২০-৩০ হাজার দর্শকের জন্য নতুন একটি স্টেডিয়াম নির্মাণের সম্ভাবনা যাচাই করছি।"
দেশের প্রতীক: তাঁর মতে, "আজকের দিনে স্টেডিয়াম শুধু খেলার জায়গা নয়, এটি একটি দেশের প্রতীক। লেবাননেরও এমন প্রতীক দরকার, এটি দেশের তরুণদের জন্যও জরুরি।"
এলএফএ প্রধান হায়দার নিশ্চিত করেছেন, ইনফান্তিনো নতুন স্টেডিয়ামের সব খরচ বহন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। স্টেডিয়ামটি বৈরুতই হবে বলে জোর দিয়েছেন ফিফা বস।
বর্তমানে বৈরুতের ক্যামিল চামুন স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়াম লেবাননের সবচেয়ে বড় মাঠ, যার ধারণক্ষমতা প্রায় ৫০ হাজার দর্শক।