সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরকে ঘিরে চলছে তীব্র সমালোচনা। বিশেষ করে দেশের মাটিতে টেস্ট ব্যর্থতার পর তাকে skriticizing করছেন অনেকেই। তবে এই বিতর্কের মাঝেই গম্ভীরের পক্ষ নিয়ে এগিয়ে এলেন তার সাবেক সতীর্থ, ভারতীয় কিংবদন্তি স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন।
অশ্বিন মনে করেন, গম্ভীরের কোচিং নিয়ে সমালোচনা একপেশে। টেস্টে দলে সমস্যা থাকলেও সাদা বলের ক্রিকেটে দলের উন্নতি স্পষ্ট। কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জয় ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জেতানো—এ দুটোই এসেছে তার হাত ধরে। যদিও শ্রীলঙ্কা ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ হার তাকে নিয়ে বাড়িয়েছে বিতর্ক।
“সাদা বলে গম্ভীর ইতোমধ্যেই নিজের ছাপ রেখে দিয়েছেন”—অশ্বিন
অশ্বিন সরাসরি জানান, গম্ভীরের নেতৃত্বে ভারতের সাদা বলের ক্রিকেট আরও আগ্রাসী হয়েছে। তিনি বলেন,
“আমি মনে করি সাদা বলে ‘জিজি’ ইতোমধ্যেই নিজের ছাপ রেখে দিয়েছেন।”
অশ্বিনের মতে, গম্ভীর শুধু আগ্রাসী খেলোয়াড়ই বাছাই করেননি, বরং ড্রেসিং রুমে নতুন মানসিকতার জন্ম দিয়েছেন। টি-টোয়েন্টিতে পরিবর্তনের এ প্রক্রিয়ায় বেশ উপকার হয়েছে আইপিএল থেকেও। অশ্বিন বলেন, আইপিএল ভারতকে অসাধারণ সব সাদা বলের তারকা উপহার দিয়েছে, যা গম্ভীরকে দলের ছক তৈরিতে বড় সহায়তা করেছে।
আইপিএল থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আলো কাড়ছেন অনেকেই। তাদের মধ্য থেকে অশ্বিন বিশেষভাবে উল্লেখ করেন আভিষেক শর্মার নাম।
তিনি বলেন,
“আভিষেক শর্মা এমন একজন খেলোয়াড় যাকে আবারও টি-টোয়েন্টিতে দেখার জন্য আমি মুখিয়ে আছি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের পরিকল্পনা নির্ধারণে তার প্রভাব বড় হতে পারে।”
অশ্বিন আরও যোগ করেন, ভারতের নতুন খেলার ধরণ এখন অনেকটাই ফিয়ারলেস—যার কথা তিনি নিজের খেলোয়াড়ি জীবনে চেয়েছিলেন।
কাপ্তান সূর্যকুমারেও আস্থা অশ্বিনের
গম্ভীরের প্রশংসার পর এবার প্রশংসা পেলেন ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবও। অশ্বিন বলেন,
“সূর্য নেতৃত্ব দিলে ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দল যে কোনো দিন ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে। দুর্বলতা থাকলেও বুমরাহর মতো বোলার থাকায় দলটির সব দিকই প্রায় ভারসাম্যপূর্ণ।”
তবে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন—গম্ভীরের সাদা বলের দক্ষতা থাকলেও লাল বলের কোচিংয়ে এখনও অনেক পথ বাকি।
গম্ভীরকে নিয়ে ক্ষুব্ধ ভক্তরা: গৌহাটি-রাঁচি জুড়ে বিদ্রুপ
সম্প্রতি ভারতের টেস্ট হারের পর মাঠে উপস্থিত ভক্তরাও গম্ভীরের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গৌহাটির স্টেডিয়ামজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে—“গৌতম গম্ভীর হায় হায়” স্লোগান।
রাঁচিতে অনুশীলনের সময়ও এক দর্শক তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন—“কোচিং ছেড়ে দিন।” ভিডিওটি পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়।
এদিকে গম্ভীর সমালোচনার জবাব কথায় দিতে না চাইলেও, ট্রফি জিতে উত্তর দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছেন বলে মনে করা হচ্ছে।