নিয়মিত ভালো খেললেও প্রায়ই একাদশের বাইরে থাকতে হয় মাহেদী হাসানকে। কখনো দলের কম্বিনেশন, কখনো কন্ডিশন, আবার কখনো প্রতিপক্ষ— সব মিলিয়ে সিদ্ধান্ত যায় তার বিপরীতে। তবু ২২ গজে ফেরার পর পারফরম্যান্স দিয়ে দাগ কাটতে কখনোই কার্পণ্য করেন না এই স্পিন অলরাউন্ডার।

গতকাল আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন মাহেদী। ৪ ওভারে ২৫ রান দিয়ে শিকার করেন ৩ উইকেট। প্রথম ওভারে ১৩ রান খরচ হলেও সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গে পরের ৩ ওভারে মাত্র ১২ রানে তুলে নেন ম্যাচ ঘোরানো ৩ উইকেট। রান চাপে রাখেন আইরিশ ব্যাটারদের।

ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, তবুও জায়গা অনিশ্চিত

শুধু এই ম্যাচই নয়— শেষ ৬ খেলায় প্রতিটিতেই ৪ ওভার করে বোলিং করেছেন তিনি। পাওয়ার প্লে, মিডল ওভার বা ডেথ— সব অবস্থায়ই তাকে ব্যবহার করা হয়েছে। তবু একটি ম্যাচেও ৩০ রানের বেশি দেননি। নিয়মিত উইকেটও নিয়েছেন।
তবু বাদ পড়েন। কেন? নিজেও কি জানেন?

দলকে দারুণ ফিনিশিং শট খেলে জিতিয়ে এসে এমন প্রশ্ন শুনে একটু থমকেই গিয়েছিলেন মাহেদী। তারপরও কথায় বুঝিয়ে দিলেন, ক্ষোভ তার মনেও জমা আছে—

“আপনি যে চ্যানেলে চাকরি করেন, এক মাস এখানে, এক মাস অন্য চ্যানেলে— তখন কি আপনার জন্য কমফরটেবল থাকে? আমার জন্যও কঠিন। তবে চেষ্টা করছি।”

প্রশ্নের আসল উত্তর দেবেন কারা, তাও জানালেন

মাহেদীর হয়তো সোজা উত্তর জানা, কিন্তু সেটি বললেন না। বরং জানিয়ে দিলেন, এই প্রশ্নের উত্তর আছে অন্যদের কাছে—

“এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো প্রধান কোচ দিতে পারবে, অধিনায়ক দিতে পারবে, নির্বাচকরা দিতে পারবে।”

সুযোগ পেতে গিয়ে বারবার অভাগা মাহেদী

গত এশিয়া কাপে ৪ ম্যাচে ৬ উইকেট— বোলিং গড় মাত্র ৬.৮৭। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪ ওভারে ১৮ রানে ১ উইকেট। তবুও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে জায়গা হয়নি তার।
পারফর্ম করেও সুযোগ না পাওয়ায় ক্ষোভ জমেছিল তার মনেও। যদিও তা বিস্ফোরণ নয়, তবে কিছুটা ইঙ্গিত তিনি দিয়েছেনই।

মাঠে নামলে উজাড় করে দিতে চান সব

সুযোগ যেভাবেই আসুক, যখনই আসুক— সবটুকু দিয়ে খেলাই তার লক্ষ্য।

“বাংলাদেশ দলে খেলা গর্বের। আমি ১০ ম্যাচ পরে খেলি বা নিয়মিত খেলি— খেলতে পারাটাই গুরুত্বপূর্ণ।”

এখনও নিশ্চিত নন ২ ডিসেম্বরের তৃতীয় ম্যাচে তিনি খেলতে পারবেন কি না। সুযোগ এলেই নতুন করে শুরু করতে হবে। না এলে আবার অপেক্ষা— সেটাই বাস্তবতা এই স্পিন অলরাউন্ডারের।

 

Walton Ads