ঘরের মাঠে আবারও হতাশ হতে হলো সিলেট টাইটান্সকে। রংপুর রাইডার্সের কাছে হারের পরের ম্যাচেই দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াল চট্টগ্রাম রয়্যালস। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবার সন্ধ্যার ম্যাচে ১৪ রানের জয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থানও ফিরে পেল বিসিবি পরিচালিত দলটি।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে চলতি বিপিএলে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়ে চট্টগ্রাম। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৯৮ রান তোলে তারা। জবাবে সিলেট থামে ১৮৪ রানে।
ছয় ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে উন্নত নেট রান রেটের সুবাদে এখন এক নম্বরে চট্টগ্রাম রয়্যালস। সমান ৮ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রংপুর রাইডার্স। আর সাত ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে রয়েছে সিলেট টাইটান্স।
রান তাড়ায় শুরুটা ভালো হয়নি সিলেটের। দ্বিতীয় ওভারে পারভেজ হোসেন ইমন ফিরে গেলে চাপ বাড়ে। তবে দ্বিতীয় উইকেটে তৌফিক খান তুষার ও আফিফ হোসেন ধ্রুব ২৪ বলে ৪০ রানের জুটি গড়ে ইনিংস টানার চেষ্টা করেন।
পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে আমির জামালের বলে বড় ছক্কা হাঁকিয়ে আউট হন তুষার। একই ওভারে প্রথম বলেই ছক্কা মারলেও শেষ বলে রনি তালুকদারকে বোল্ড করে দেন জামাল।
এরপর ধীরে ধীরে কমে যায় রানের গতি। ফিফটির সম্ভাবনা জাগিয়েও আফিফ থামেন ৩৩ বলে ৪৬ রানে। মইন আলি (১৩) ও আজমতউল্লাহ ওমরজাই (১৮) বড় ইনিংস খেলতে পারেননি।
মাঝখানে ইথান ব্রুকস কিছুটা আশা জাগান। তবে ১০ বলে ২০ রান করে ফিরে যান এই ইংলিশ তরুণ। আট নম্বরে নেমে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও সুবিধা করতে পারেননি।
শেষ দিকে সিলেটের পেসার সৈয়দ খালেদ আহমেদ ম্যাচে উত্তেজনা ফেরান। বিপিএল ইতিহাসে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে এক ইনিংসে তিনটি ছক্কা মারেন তিনি। তবে ৯ বলে ২৫ রান করেও দলের হার এড়াতে পারেননি।
চট্টগ্রামের হয়ে বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন আমির জামাল, নেন ৪ উইকেট। শরিফুল ইসলাম শিকার করেন ২টি উইকেট।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে চট্টগ্রামের শুরুটা ভালো হয়নি। পঞ্চম ওভারে ৩৫ রানে ফেরেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ (১৫ বলে ১৮)। এরপর তিন নম্বরে নেমে আগ্রাসী ব্যাটিং করেন জয়। অ্যাডাম রসিংটনের সঙ্গে ৩৮ বলে ৬০ রানের জুটি গড়েন তিনি।
৩ চার ও ৪ ছক্কায় জয় ফিরলেও ফিফটির আগে আউট হন। টানা চতুর্থ ফিফটি থেকে মাত্র ১ রানের জন্য বঞ্চিত হন রসিংটন। তার ব্যাট থেকে আসে ৩৮ বলে ৪৯ রান। হাসান নাওয়াজ (২৫) ও আসিফ আলি (১৩) বড় অবদান রাখতে পারেননি।
শেষ দিকে দারুণ ফিনিশিং করেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান। আমির জামালকে সঙ্গে নিয়ে ১৭ বলে ৩৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন তিনি। ৪ চার ও ১ ছক্কায় চট্টগ্রাম অধিনায়ক সাজান কার্যকর ইনিংস।
পাকিস্তানে ফিরে যাওয়ায় সিলেট দলে ছিলেন না মোহাম্মদ আমির। তার বদলি হিসেবে খেলতে নেমে বাঁহাতি পেসার রুয়েল মিয়া ৪১ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন।