প্রথমবারের মতো উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতে ইতিহাস গড়ল ফরাসি জায়ান্ট প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। ট্রফির সঙ্গে সঙ্গে রেকর্ড অঙ্কের অর্থও ঘরে তুলেছে ক্লাবটি। এক মৌসুমেই পিএসজির আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫৮ কোটি টাকার বেশি। রানার্সআপ হওয়া ইতালিয়ান ক্লাব ইন্টার মিলান পাচ্ছে ১ হাজার ৯৪৮ কোটি টাকা। শুধু ফাইনালিস্ট নয়, গ্রুপ পর্ব থেকে সেমিফাইনাল পর্যন্ত খেলা প্রতিটি দলই পেয়েছে বড় অঙ্কের অর্থ পুরস্কার। অন্যদিকে, উয়েফার দ্বিতীয় স্তরের প্রতিযোগিতা ইউরোপা লিগে চ্যাম্পিয়ন টটেনহ্যাম পেয়েছে ৪৭.৮ মিলিয়ন ডলার, আর রানার্সআপ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড পেয়েছে ৪১.৯ মিলিয়ন ডলার।

দীর্ঘদিনের স্বপ্ন অবশেষে পূরণ হলো পিএসজির। মেসি, এমবাপ্পেদের মতো তারকাদের নিয়েও যে ট্রফি ধরা দেয়নি, সেটাই এবার এসেছে দেম্বেলেদের হাত ধরে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিতেছে প্যারিসের ক্লাবটি।

স্বপ্ন পূরণের পাশাপাশি আর্থিক দিক থেকেও বিশাল লাভবান হয়েছে পিএসজি। তবে এই সাফল্য সহজে আসেনি। নতুন ফরম্যাটে এবার প্রথমবারের মতো ৩৬ দল অংশ নেয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগে। দল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রাইজমানিও বাড়ায় উয়েফা। নতুন ফরম্যাটে মোট প্রাইজমানি নির্ধারিত ছিল ২.৪৭ বিলিয়ন ডলার, যা আগের চেয়ে ৪৬৬ মিলিয়ন ডলার বেশি। ফলে সব মিলিয়ে চ্যাম্পিয়ন পিএসজি পেয়েছে ১৬৮ মিলিয়ন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ২০৫৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

আয়ের দিক থেকে স্বাভাবিকভাবেই সবার শীর্ষে রয়েছে শিরোপাজয়ী পিএসজি। ২০২৪–২৫ মৌসুমের প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। উয়েফার কাছ থেকে অর্থপ্রাপ্তির তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রানার্সআপ ইন্টার মায়ামি, যারা পেয়েছে ১৫৯ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১৯৪৮ কোটি টাকা। এ ছাড়া সাতটি দল ন্যূনতম ১১৬ মিলিয়ন ডলার করে আয় করেছে।

ইউরোপ সেরার মঞ্চে সর্বোচ্চ ১৫ বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা রিয়াল মাদ্রিদ এবার পেয়েছে ১১৯ মিলিয়ন ডলার। এটি ২০২৪ মৌসুমে শিরোপা জয়ের পর পাওয়া অর্থের চেয়ে ৩৭ মিলিয়ন ডলার কম।

ইংলিশ ক্লাবগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম আয় করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। সাবেক এই ইংলিশ চ্যাম্পিয়নরা ইউসিএল থেকে পেয়েছে ৮৮.৫ মিলিয়ন ডলার। রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হেরে প্লে-অফ থেকেই বিদায় নেয় পেপ গার্দিওলার দল। পুরো টুর্নামেন্টে সবচেয়ে কম আয় করেছে স্লোভাকিয়ার ক্লাব ব্রাতিস্লাভা।

অন্যদিকে, ইউরোপা লিগে শিরোপা জিতে টটেনহ্যাম পেয়েছে ৪৭.৮ মিলিয়ন ডলার এবং রানার্সআপ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ঝুলিতে গেছে ৪১.৯ মিলিয়ন ডলার। তবে চলমান মৌসুমে ইউনাইটেড উয়েফার কোনো প্রতিযোগিতায় না থাকায় এবার তারা আর কোনো অর্থ পাচ্ছে না।

 

Walton Ads