টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ের রূপকথার মতো যাত্রা। গ্রুপপর্বে অপরাজিত থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়ে সুপার এইটে জায়গা করে নিয়েছে দলটি। কিন্তু এই সাফল্যের মাঝেই সামনে এসেছে এক আবেগঘন বাস্তবতা—ভারতে গিয়ে নিজেদের দলকে সমর্থন করার মতো অর্থ নেই অনেক ভক্তেরই।

গ্যালারির প্রাণ ছিল ‘ব্রাস ব্যান্ড’

শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত গ্রুপপর্বে জিম্বাবুয়ের সমর্থকদের ‘ব্রাস ব্যান্ড’ ও ‘ক্যাসেল কর্নার’ ছিল গ্যালারির অন্যতম আকর্ষণ। ঢাক-ঢোল, তুরির আওয়াজ আর রঙিন পোশাকে তারা স্টেডিয়ামে এনে দিত উৎসবের আবহ।

তবে দলটি যে অপরাজিত থেকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সুপার এইটে উঠবে—এমনটা হয়তো অনেক সমর্থকই ভাবেননি। ফলে মুম্বাই, চেন্নাই বা দিল্লিতে পরবর্তী রাউন্ডের ম্যাচ দেখার জন্য আগে থেকে কোনো বাজেট বা প্রস্তুতি ছিল না তাদের।

আর্থিক সহায়তার আবেদন

এই পরিস্থিতিতে জিম্বাবুয়ের বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কাছে জরুরি আর্থিক সহায়তার আবেদন জানানো হয়েছে। বিখ্যাত সমর্থক গোষ্ঠী ‘ব্রাস ব্যান্ড’-এর মুখপাত্র পল মুঙ্গোফা দেশটির ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, “আমি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করছি আমাদের দলকে সমর্থন দিতে, ঠিক যেমনটা তারা ফুটবলের ক্ষেত্রে করেন। আমাদের ব্রাস ব্যান্ড ও ক্যাসেল কর্নার গ্যালারিতে বিশাল পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। চলুন, আমরা আওয়াজ তুলি এবং ট্রফি নিয়ে দেশে ফিরি।”

নিজেদের খরচে পাশে ভক্তরা

জিম্বাবুয়ের প্রধান সমর্থক প্রতিনিধি মালভিন কোয়ারাম্বা জানান, এতদিন নিজেদের খরচেই তারা দলের পাশে ছিলেন। তাঁর ভাষায়, “আমরা প্রত্যেক ম্যাচে, প্রত্যেক ভেন্যুতে গিয়েছি। দলের সঙ্গে আনন্দ করেছি, আবার কেঁদেছি। তারা এখন আমাদের পরিবারের মতো।”

অধিনায়কের কৃতজ্ঞতা

জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা সমর্থকদের এই ত্যাগ ভুলে যাননি। তিনি বলেন, “তারা নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে আমাদের সমর্থন দিতে হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়েছেন। তাদের এই আবেগের জন্য আমরা আজীবন কৃতজ্ঞ।”

সুপার এইটে জিম্বাবুয়ের প্রথম ম্যাচ আজ সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি গ্যালারির লড়াইটাও এখন সমান গুরুত্বপূর্ণ—ভক্তরা কি পারবেন আবারও গ্যালারিকে রঙিন করে তুলতে?

 

Walton Ads