অস্ট্রেলিয়ার পেস তারকা মিচেল স্টার্ক আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। আগামী বছরের শুরুতে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ছয় মাস আগে এই সিদ্ধান্ত নিলেন ৩৫ বছর বয়সী বাঁহাতি পেসার। স্টার্ক জানিয়েছেন, টেস্ট ও ওয়ানডে ক্যারিয়ার দীর্ঘায়িত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
২০১২ সালে টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হওয়া স্টার্ক অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম সফল ফাস্ট বোলার হিসেবে বিদায় নিচ্ছেন। ৬৫ ম্যাচে তার ৭৯ উইকেট, যা এই ফরম্যাটে দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। শুধুমাত্র লেগ স্পিনার অ্যাডাম জ্যাম্পা তার ওপরে রয়েছেন।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার বিবৃতিতে স্টার্ক বলেছেন, “টেস্ট ক্রিকেটই আমার প্রথম অগ্রাধিকার, সবসময় থাকবে। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে প্রতিটি টি-টুয়েন্টি খেলার মুহূর্ত আমি উপভোগ করেছি। বিশেষ করে ২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ– জেতার আনন্দের সঙ্গে অসাধারণ দল ও যাত্রার কারণে।”
তিনি আরও জানিয়েছেন, ভারতের সফর, অ্যাশেজ সিরিজ এবং ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে সতেজ, ফিট ও সেরা থাকতে এটাই সবচেয়ে ভালো উপায়। এর মাধ্যমে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে দলের বোলিং গ্রুপও প্রস্তুতির সময় পাবে।
মঙ্গলবার নিউ জিল্যান্ড সিরিজের অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি দলে ছিলেন না স্টার্ক। প্রধান নির্বাচক জর্জ বেইলি স্বীকার করেন, তার শূন্যতা পূরণ করা সহজ হবে না। নতুন বলে শুরুতে প্রভাব বিস্তার ও ডেথ ওভারে বল করার দক্ষতার অভাব অনুভূত হবে।
স্টার্কের ১৪৫ কিমি প্রতি ঘণ্টায় সুইং করা বোলিং এবং অসাধারণ ফিল্ডিং তাকে অনন্য করেছে। তবে ন্যাথান এলিস, বেন ডোয়ার্শিস, শন অ্যাবট ও জেভিয়ার বার্টলেটকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার একমাত্র টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়েও তার অবদান বড় ছিল। ২০২১ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে সাত ম্যাচে ৯ উইকেট নেন তিনি।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান টড গ্রিনবার্গ বলেছেন, দেশের হয়ে খেলার জন্য স্টার্ক অনেক গুরুত্বপূর্ণ ত্যাগ করেছেন। আগামী বছরের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে নতুন প্রজন্মের ফাস্ট বোলারদের জন্য পথ খুলে দেওয়া দলের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার দারুণ উদাহরণ।
