ম্যানচেস্টার ডার্বিতে আবারও ঝলসে উঠলেন আর্লিং হাল্যান্ড। দুই ম্যাচ হারার পর যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেল ম্যানচেস্টার সিটি। পেপ গার্দিওলার দলের হয়ে জোড়া গোল করে তিনি ফিরিয়ে দিলেন ছন্দ। সঙ্গে ছিলেন ফিল ফোডেনও, যার দারুণ হেডে গোল পেয়ে এগিয়ে যায় সিটি। শেষ পর্যন্ত ১৯তম ডার্বি জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সিটিজেনরা।
এই জয়ে চার ম্যাচে সিটির পয়েন্ট দাঁড়াল ৬। অন্যদিকে রুবেন আমোরিমের নেতৃত্বে থাকা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড সংগ্রহ করতে পেরেছে মাত্র ৪ পয়েন্ট। ফলে রেড ডেভিলরা আবারও পিছিয়ে পড়েছে মৌসুমের শুরুতেই।
গার্দিওলার দলে মাঠে নেমেছিলেন হাল্যান্ড, ফোডেন, রদ্রি, রুবেন দিয়াস ও অভিষেক ম্যাচেই নজর কাড়া গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি ডোনারুম্মা। অন্যদিকে আমোরিমের হাতে এখনো সেরকম মানসম্পন্ন দল নেই। গত মৌসুমের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি এড়াতেই এখন তার লড়াই।
ম্যাচের শুরুতে স্ট্রাইকার বেঞ্জামিন সেসকো একটি শট নিলেও ডোনারুম্মা তা দুর্দান্তভাবে রুখে দেন। এরপরেই আসে প্রথম গোল। রদ্রির নিখুঁত পাসে বল পান জেমি ডোকু। দারুণ গতিতে লুক শ’কে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে ডাবল ক্রস দেন তিনি। সেখান থেকে ফিল ফোডেন দুর্দান্ত হেডে গোল করে সিটিকে এগিয়ে নেন।
দ্বিতীয়ার্ধে আবারও ঝলক দেখান ডোকু। তার নিখুঁত পাস থেকে হাল্যান্ড সহজেই বল তুলে দেন গোলকিপার বাইন্দিরের মাথার উপর দিয়ে। গোল হতেই স্টেডিয়ামের লাল অংশে নেমে আসে নীরবতা।
ম্যাচের শেষদিকে বার্নার্ডো সিলভার পাস থেকে মাঝমাঠ থেকে দৌড়ে উঠে ঠাণ্ডা মাথায় গোল করেন হাল্যান্ড। ম্যাগুয়ারকে কাটিয়ে বাইন্দিরকে পরাস্ত করা সেই গোল যেন ইউনাইটেড ভক্তদের আঘাতের ওপর লবণ ছিটিয়ে দিল।
প্রিমিয়ার লিগে দায়িত্ব নেওয়ার পর ৩১ ম্যাচে আমোরিমের দল পেয়েছে মাত্র ৩১ পয়েন্ট। এ পারফরম্যান্সকে অনেকেই রেলিগেশন পর্যায়ের বলে মনে করছেন। রেড ডেভিলরা এখনো কল্পনা, কৌশল আর সবচেয়ে জরুরি বিষয়—সৃজনশীলতার মারাত্মক সংকটে ভুগছে। স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের বিদায়ের ১২ বছর পরও ইউনাইটেড কবে ঘুরে দাঁড়াবে, সেই প্রশ্নই এখন বড়।