আজকের ম্যাচের জয় আর ম্যাচসেরার পুরস্কার আমার বাবাকে উৎসর্গ করলাম। তুমি যেখানেই থাকো, ভালো থেকো। নামধারী স্পোর্টস অ্যাকাডেমিকে ০-২ গোলে হারিয়ে ইস্টবেঙ্গল আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে পৌঁছেছে। আমার প্রথম গোল, দ্বিতীয় গোল করেছে পিভি বিষ্ণু।
“আমার গোলটা তোমার জন্য বাবা। ম্যাচসেরার পুরস্কারও তোমারই। আমি প্যালেস্টাইনের মানুষ। অসম্ভব শব্দ আমাদের অভিধানে নেই। জন্ম থেকেই আমরা যোদ্ধা। মাঠে আমি এক লড়াকু সেনা। শোক-দুঃখ ভুলে প্রতিনিয়ত নিজেকে বড় লড়াইয়ের জন্য তৈরি করি।”
ফাইনালের পথ
ডুরান্ড কাপ চলাকালীন বাবার প্রয়াণের খবর পেয়ে কলকাতা ছাড়তে হয়েছিল। ফিরে এসে নেমে পড়েছিলাম মাঠে, কিন্তু সেমিফাইনালে ছন্দপতন হয়। এবার ফাইনাল আলাদা হবে—আমরা জিতব, বাবাকে উৎসর্গ করব।
আজ (১৪ অক্টোবর) ১৯ মিনিটে আমি প্রথম গোল করি। ৪২ মিনিটে বিষ্ণু দ্বিতীয় গোল করেন। দুটোই ডিফ্লেকশনে। নামধারী দলের আক্রমণ দুইবার আমাদের রক্ষণের কাছে আটকে যায়। রাকিপ আমাদের রক্ষণের অতন্দ্র প্রহরী, একক দক্ষতায় আক্রমণ থামিয়েছেন।
নামধারীর ২৬ নম্বর খেলোয়াড় মাইকেল ওসেই-এর আক্রমণ কখনো বড় চোট ঘটাতে পারত। আমাদের কোচ বারবার সতর্ক করেছেন, কিন্তু আমরা আরও বড় মঞ্চের দিকে তাকিয়ে আছি।
জার্সি ও আবেগ
জাতীয় দলে আমার জার্সি নম্বর ৩, ইস্টবেঙ্গলে ৭৪। জার্সি কেবল পোশাক নয়, এক আবেগ। বাবার জন্মমাস ৭, মায়ের ৪, ৭ থেকে ৪ বিয়োগ করলে হয় ৩—আমার জন্মদিন ৩ জুলাই। তাই জাতীয় দলের জন্য ৩ নম্বর।
প্যালেস্টাইনের রাস্তায় ফুটবল খেলেই শৈশব কেটেছে। বহুবার বাবা গ্যালারিতে বসে আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন। অনূর্ধ্ব-২৩ দলের ম্যাচে, ২০১৯ সালে সৌদি আরব ও উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে প্যালেস্টাইনের ম্যাচেও বাবা উপস্থিত ছিলেন।
মাঝমাঠের দায়িত্বে আমি প্রতিপক্ষের আক্রমণ থামাই, দলের আক্রমণ তৈরি করি এবং গোলও করি। আজ যেমন গোল করলাম, আগেও ডুরান্ড কাপের কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামের ম্যাচে গোল পেয়েছি।
ফাইনাল ও আশা
ফাইনালে আরও একটি ম্যাচ বাকি। ২৯ বার শিল্ড জেতার নজির রয়েছে ইস্টবেঙ্গলের। আমরা ঐতিহ্যবাহী আইএফএ শিল্ড জিতব। সেই জয় তোমাকে উৎসর্গ করব বাবা।