স্পোর্টস ডেস্ক, রায়পুর: ভারতীয় ক্রিকেট দলের কপাল পুড়ছেই! বুধবার (৩ ডিসেম্বর) রায়পুরের শহীদ বীর নারায়ণ সিং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও টস হারলেন কে এল রাহুল-এর নেতৃত্বাধীন টিম ইন্ডিয়া। এর ফলে ওয়ানডে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টানা টস হারানোর অবাঞ্ছিত বিশ্বরেকর্ডটি ২০-তে নিয়ে গেল মেন ইন ব্লু।
বিশ্বরেকর্ড, যা কেউ চায় না: দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজের টানা দ্বিতীয়বারের মতো টস হারল ভারত। ফলে যেখানে শিশির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে, সেখানে আরও একবার শুরুতেই সুবিধা পেয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা। এই নিয়ে টানা ২০টি ওয়ানডেতে টস হারলো ভারত, যা পুরুষদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অতুলনীয় এক রেকর্ড।
কোথা থেকে শুরু হলো এই হার? এই অস্বাভাবিক টস হারানোর ধারাটি শুরু হয়েছিল ২০২৩ বিশ্বকাপের ফাইনালে আহমেদাবাদে। এরপর থেকে ভারত যতগুলো দ্বিপাক্ষিক বা বহুজাতিক ওয়ানডে খেলেছে, প্রতিটিতেই তারা টস হেরেছে। এর আগে নেদারল্যান্ডস ২০১১ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে টানা ১১টি টস হেরে এই রেকর্ডের কাছাকাছি ছিল। ভারত সেই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ করে এমন একটি রেকর্ড তৈরি করেছে, যার ধারেকাছেও কোনো দল নেই।
তবুও সাফল্য: যদিও দলটি আশা করছে এই অস্বাভাবিক ধারা দ্রুত শেষ হবে, তবে এরই মধ্যে টস হারানোর সংখ্যাটি ২০-এ পৌঁছে গেছে। তবে টসের এই অসুবিধা সত্ত্বেও দলটি সম্প্রতি দারুণ পারফর্ম করেছে, এমনকি একটি ম্যাচও না হেরে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০২৫ জিতেছে।
রাহুলের মজার মন্তব্য: টস জেতার জন্য অধিনায়ক কে এল রাহুল যে কতটা মরিয়া, তা বোঝা গেল তার মজার কথায়। টসের সময় রাহুল রসিকতা করে বলেন যে, তিনি টস জেতার জন্য "খুব অনুশীলন" করেছেন। তবে রাহুল নিশ্চিত করেন, শিশিরের কথা মাথায় রেখে তারা প্রথমে বোলিং করার জন্য প্রস্তুত এবং তাদের পরিকল্পনা নিয়ে তারা ভালোভাবে আলোচনা করেছেন।
রাহুল বলেন, "আমরা জানি কী আশা করতে হবে। ছেলেরা ভালো ফর্মে আছে। এবং এই ম্যাচ নিয়ে আমি উত্তেজিত। সিরিজের আগেও আমরা শিশির নিয়ে আলোচনা করেছি। ভারতে এই সময়ে প্রচুর শিশির পড়ে। আমরা যেখানেই খেলি, শিশিরের প্রত্যাশা করি। তাই বোলাররা এ নিয়ে কথা বলেছে। আমরা কিছু কৌশল এবং কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি, যা আমরা গত ম্যাচে সত্যিই ভালোভাবে করতে পেরেছি। তাই এটা আমাদের বোলিং দলকে অনেক আত্মবিশ্বাস দেবে।"
দলের পরিবর্তন: দ্বিতীয় ওয়ানডেতে দক্ষিণ আফ্রিকা টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয়। তারা তাদের একাদশে তিনটি পরিবর্তন এনেছে। টেম্বা বাভুমা, কেশভ মহারাজ এবং লুঙ্গি এনগিডি একাদশে ফিরেছেন। বাদ পড়েছেন রায়ান রিকেলটন, প্রেনেলান সুব্রায়েন ও অটনিয়েল বার্টম্যান। অন্যদিকে, ভারত কোনো পরিবর্তন ছাড়াই খেলছে।
ভারত (প্লেয়িং ইলেভেন): যশস্ব জয়সোয়াল, রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, রুতুরাজ গায়কোয়াড়, ওয়াশিংটন সুন্দর, কে এল রাহুল (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক), রবীন্দ্র জাদেজা, হার্শিত রানা, কুলদীপ যাদব, আর্শদীপ সিং, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা।
দক্ষিণ আফ্রিকা (প্লেয়িং ইলেভেন): কুইন্টন ডি কক (উইকেটরক্ষক), এইডেন মার্করাম, টেম্বা বাভুমা (অধিনায়ক), ম্যাথিউ ব্রেটজকে, টনি ডি জোরজি, ডেওয়াল্ড ব্রেভিস, মার্কো জানসেন, করবিন বস্ক, কেশভ মহারাজ, নান্দ্রে বার্গার, লুঙ্গি এনগিডি।
