আইপিএল ২০২৬ মিনি নিলামের জন্য বিসিসিআই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর আবুধাবিতে বসছে এই নিলাম, যেখানে সব দশটি ফ্র্যাঞ্চাইজি নিজেদের স্কোয়াডের শেষ ঘাটতিগুলো পূরণ করার চেষ্টা করবে। প্রতিটি দল রিটেনশন তালিকা জমা দিয়েছে, আর নিলামে তারা নতুনভাবে দল সাজানোর পরিকল্পনা করছে।
এবারের নিলামে বেশ কিছু বড় নামকে রিলিজ করা হয়েছে মূলত স্যালারি পার্স খালি করতে। অনেকেই নতুন দলে সুযোগের আশায় আবার নথিভুক্ত হয়েছেন। প্রথমে তালিকায় ছিল হাজারেরও বেশি ক্রিকেটার; দলের সঙ্গে আলোচনার পর তা ছেঁটে ৩৫০ জনে নামানো হয়, সঙ্গে কিছু লেট এন্ট্রিও যোগ করা হয়েছে।
যদিও অনেক বিদেশি তারকা নিলামে নজর কাড়বেন বলে আশা, তবুও বেশ কিছু বড় নাম এবার অবহেলার শিকার হতে পারেন। ফর্ম, ফিটনেস, টিম কম্বিনেশন আর দলের কৌশলগত পরিবর্তন—সব মিলিয়ে তাদের ভাগ্য নির্ভর করছে এই নিলামের ওপর।
২০২৪ সালে দুর্দান্ত ডেবিউ করেছিলেন। দ্রুত রান তুলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন এই অজি ব্যাটার। কিন্তু ২০২৫ মৌসুমে একেবারেই ছন্দে ছিলেন না—৬ ম্যাচে মাত্র ৫৫ রান। ফলে দিল্লি ক্যাপিটালস তাকে রিলিজ করে।
২৩ বছর বয়সেই তাঁর প্রচুর সম্ভাবনা, সেটা দলগুলো জানে। তবে বেস প্রাইস ₹২ কোটি হওয়ায় অনেক দলই ঝুঁকি নিতে চাইবে না। ভবিষ্যতের পরিকল্পনা থাকা কিছু দল আগ্রহ দেখালেও, নিলামে অবিক্রীত থাকার সম্ভাবনাও প্রবল।
স্টিভ স্মিথ ও বেন ডাকেট
দুইজনই অভিজ্ঞ বিদেশি ব্যাটার।
স্টিভ স্মিথ শেষবার আইপিএলে খেলেছেন ২০২১ সালে। বিগ ব্যাশ আর এমএলসিতে ভালো করলেও ₹২ কোটি বেস প্রাইস তার ভাগ্য কঠিন করে তুলছে।
বেন ডাকেট ইংল্যান্ডের নির্ভরযোগ্য ওপেনার। আগের আইপিএল মেগা নিলামেও তাকে কেউ নেয়নি। দুর্দান্ত ফর্মে থাকলেও টুর্নামেন্টজুড়ে তার প্রাপ্যতা নিয়ে দলগুলো দোটানায় থাকতে পারে।
কাইল জেমিসন ও এনরিখ নরকিয়া
চোটের কারণে এই দুই পেসারের ঝুঁকি খুবই বেশি।
নরকিয়া ২০২০ সালে আইপিএলের সবচেয়ে দ্রুত গতির বল করেছিলেন এবং দিল্লি ক্যাপিটালসের ফাইনালে ওঠার পিছনে বড় ভূমিকা ছিল তাঁর। কিন্তু ২০২৫-এ কেকেআরের হয়ে তিনি খেলেছেন মাত্র দুটি ম্যাচ। ফিটনেস নিয়ে বড় প্রশ্ন আছে।
কাইল জেমিসন টানা ইনজুরিতে ভুগেছেন। ২০২৩ ও ২০২৪—দুই মৌসুমই মিস করেছেন। ২০২৫-এ পাঞ্জাব কিংসের হয়ে ৪ ম্যাচে ৫ উইকেট নিলেও তার স্থায়িত্ব নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।
যদিও এই তারকারা বিগ ম্যাচ উইনার হতে পারেন, তবুও টিম কম্বিনেশন, ইনজুরি রিস্ক এবং বেস প্রাইস মিলিয়ে ২০২৬ নিলামে তাদের উপেক্ষার শঙ্কা জোরালো।