টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে রোমাঞ্চের মধ্যেই হঠাৎ বড় এক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিল পাকিস্তান। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে প্রতিপক্ষ ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে তারা। ধারণা করা হচ্ছে, বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদেই তাদের এই কঠোর পদক্ষেপ।

এই পুরো বয়কট বিতর্কের মাঝেই ফের আলোচনায় উঠে এসেছে ভারত দলের বর্তমান কোচ গৌতম গম্ভীরের সাত বছর আগের একটি প্রাসঙ্গিক বক্তব্য। ২০১৯ সালে পুলওয়ামা হামলার পর তিনি তখনই দাবি করেছিলেন যে, ভারতের উচিত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সব ধরনের ক্রিকেট ম্যাচ পুরোপুরি বয়কট করা। বর্তমান পরিস্থিতিতে 'গুরু' গম্ভীরের সেই বিচক্ষণতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ নেটিজেনরা।

২০১৯ সালের পুলওয়ামা সন্ত্রাসী হামলায় পাকিস্তানি জঙ্গি গোষ্ঠী জইশ-ই-মহম্মদের হাতে ৪০ জন ভারতীয় সেনা শহিদ হন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় সারা ভারতজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম নেয়। তখনই বিজেপির সাংসদ হিসেবে গৌতম গম্ভীর পাকিস্তানের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করার ডাক দিয়েছিলেন।

গম্ভীর তখন স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন, "শর্তসাপেক্ষ নিষেধাজ্ঞার কোনো মানে হয় না। হয় পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা চাপাও, নয়তো সবকিছুতে ছাড় দাও। পুলওয়ামায় যা ঘটেছে, তা মেনে নেওয়া যায় না। হয়তো আইসিসির টুর্নামেন্টে পাকিস্তানকে বয়কট করা কঠিন। কিন্তু ভারতের উচিত এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলা বন্ধ করে দেওয়া।"

তিনি তখন আরও যোগ করেছিলেন, "এই সিদ্ধান্ত নিলে সমালোচনা হবে। আমরা হয়তো সেমিফাইনালেও জায়গা পাব না। কিন্তু পাকিস্তানকে বয়কট করলে সমালোচনার কিছু নেই। ২ পয়েন্ট তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। দেশ সবার আগে। ৪০ জন সেনার জীবন ক্রিকেটের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যদি বিশ্বকাপের ফাইনাল ছেড়ে দিতেও পারি, তাহলেও দেশবাসীর সেটার জন্য তৈরি থাকা উচিত।"

মজার ব্যাপার হলো, আজ সেই গৌতম গম্ভীরই ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ। আর পাকিস্তানই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কটের। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কায় ভারত-পাকিস্তানের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল। এর আগে গত এশিয়া কাপেও দু’দলের মধ্যে ম্যাচের আগে হাত মেলানো নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এবার বল গড়ানোর আগেই তৈরি হয়েছে আরেক বড় বিতর্ক।

 

news