আইপিএলে বিতর্ক আর থামছে না। এবার কলকাতা নাইট রাইডার্সের ব্যাটার আংক্রিশ রাঘুবংশী পড়লেন শাস্তির ফাঁদে। লখনউ সুপার জায়ান্টসের মাঠে ম্যাচ চলাকালে আচরণবিধি ভাঙার অপরাধে ওই তরুণকে গুনতে হচ্ছে ২০ শতাংশ ম্যাচ ফি ও ১ ডিমেরিট পয়েন্ট।
কেন এই শাস্তি? ঘটনাটা নিয়েছে বাঁক। পঞ্চম ওভারে বিতর্কিত এক আউটে মাঠ ছাড়তে হয় রাঘুবংশীকে। বলা হয়—অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড। অর্থাৎ ফিল্ডিংয়ে বাধা দেওয়া। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত মানতে পারেননি কলকাতা তারকা।
মিড অন থেকে মোহাম্মদ শামি ছুড়লেন থ্রো। স্ট্রাইকার প্রান্তে ফেরার জন্য ডাইভ দেন রাঘুবংশী। তখন তাঁর গায়ে লাগে বল। লখনউ ফিল্ডারদের আবেদনে দুই অনফিল্ড আম্পায়ার সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য চান টিভি আম্পায়ারের কাছে।
টিভি আম্পায়ার রোহন পন্ডিত রায় দেন—ক্রিজে ফেরার সময় রাঘুবংশী ‘উল্লেখযোগ্যভাবে’ দিক পরিবর্তন করেছেন। অর্থাৎ ইচ্ছে করেই বাধা সৃষ্টি করেছেন। ফলে আউট।
আউটের সিদ্ধান্ত শুনে যেন চক্ষু চড়কগাছ রাঘুবংশীর! প্রথমে অনফিল্ড আম্পায়ারের সঙ্গে বচসা। তারপর প্যাভিলিয়নে ফেরার সময় যা করলেন, তা দেখে হতবাক সবাই।
বাউন্ডারি কুশনে জোড়ে আঘাত করলেন ব্যাট দিয়ে। তারপর হতাশায় হেলমেট ছুড়ে মারলেন। এমন দৃশ্য দেখে ফোর্থ আম্পায়ারের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় কলকাতা প্রধান কোচ অভিষেক নায়ারকে।
এরপরই আইপিএল কর্তৃপক্ষ সক্রিয় হয়। রাঘুবংশীর বিরুদ্ধে আচরণবিধির ২.২ ধারা প্রয়োগ করা হয়, যেখানে বলা আছে—ক্রিকেট সরঞ্জাম বা মাঠের জিনিসপত্রের অপব্যবহার করলে শাস্তি হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আইপিএল জানিয়েছে, “রাঘুবংশী আক্রমণাত্মকভাবে ব্যাট দিয়ে বাউন্ডারি কুশনে আঘাত করেন এবং ডাগআউটে হেলমেট ছুড়ে ফেলেন।”
অবশ্য অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছেন রাঘুবংশী এবং ম্যাচ রেফারি জাভাগল শ্রীনাথের দেওয়া শাস্তি মেনে নিয়েছেন বলে জানিয়েছে আইপিএল।
তবে দর্শকদের একটা বড় অংশ বলছেন—আউটটা সত্যিই বিতর্কিত ছিল। কিন্তু আবেগের বশে এভাবে সরঞ্জাম ভাঙা এবং হেলমেট ছোড়া কি ঠিক হলো? আপনার কী মনে হয়?
