আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার উত্তেজনাপূর্ণ ৩-২ ব্যবধানে আর্জেন্টিনার উজ্জ্বল কমব্যাক এবং এনজো ফার্নান্দেজের শেষ মুহূর্তের গোলের মধ্যে ম্যাচের সবথেকে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে রেফারির সিদ্ধান্ত। ২০২২ সালের এই বিশ্বকাপের ম্যাচে মিশরীয় দল মাঠ ত্যাগ করে বিশ্বাস করেছিল যে তাদের কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, আর অনেক রেফারি বিশেষজ্ঞও প্রশ্ন তুলেছেন খেলার নিয়ম যথাযথভাবে প্রয়োগ হয়েছে কিনা। এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে, যেখানে আর্জেন্টিনা ও মিশর বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে মুখোমুখি হয়।
ম্যাচের ৫৮তম মিনিটে মিশরের মোস্তাফা জিকো একটি দ্রুত কনটার অ্যাটাক থেকে গোল করে মনে করেছিলেন যে তিনি দলকে ২-০ এগিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু VAR-এর মাধ্যমে রেফারি ফ্রঁসোয়া লেটেক্সিয়ের পূর্বের একটি চ্যালেঞ্জ পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেন যে মারওয়ান আতিয়া লিসান্দ্রো মার্টিনেজের উপর ফাউল করেছিলেন এবং সেই কারণে গোলটি বাতিল করা হয়। আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের (IFAB) আইন অনুযায়ী এবং VAR প্রোটোকল অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্ত আইনগত দিক থেকে সঠিক বলে বিবেচিত হতে পারে।
তবে প্রশ্ন উঠেছে যে এই সিদ্ধান্ত খেলার সঠিক মর্ম এবং ন্যায়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল কি না। খেলার বিশেষজ্ঞরা যেমন প্রাক্তন প্রিমিয়ার লিগ রেফারি গ্রাহাম স্কট এবং প্রাক্তন ফিফা রেফারি ফের্নান্দো গুয়েরেরো মনে করেন, যদিও আইনগতভাবে VAR এই ধরনের পর্যালোচনা করতে পারে, কিন্তু এতদূর পর্যন্ত বিশ্লেষণ করা উচিত ছিল না, বিশেষত যখন আর্জেন্টিনা গোলের আগে বেশ কয়েকবার বল দখল ফিরে পেতে সক্ষম হয়েছিল এবং আক্রমণ দীর্ঘ সময় ধরে গড়ে ওঠে। তারপর ম্যাচের শেষের দিকে মিশরের মোহামেদ সালাহ পেনাল্টি দাবি করেন যখন তিনি আর্জেন্টিনা খেলোয়াড় জুলিয়ান আলভারেজের সংস্পর্শে এলেন, এবং আরেকজন মিশরীয় খেলোয়াড়ের শার্ট টানার ঘটনা ঘটে, কিন্তু রেফারি লেটেক্সিয়ের সেই মুহূর্তে খেলা চালিয়ে দেন এবং VAR কোনো হস্তক্ষেপ করেনি।
এরপরই আর্জেন্টিনা এগিয়ে আসে এনজো ফার্নান্দেজের গোলের মাধ্যমে। এই সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে যে, যদি একটি দীর্ঘ আক্রমণ পর্যালোচনা করে মিশরের গোল বাতিল করা যায়, তাহলে কেন পেনাল্টি দাবিগুলো একই মাত্রায় বিচার করা হয়নি? ম্যাচের শেষের দিকে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়ে মিশরীয় খেলোয়াড় এবং স্টাফদের বিরুদ্ধে হলুদ কার্ড দেখানো হয় এবং গোলরক্ষক কোচ সাফান এল-সাগীরকে মাঠ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
মিশরীয় দল মনে করেছে রেফারিরা তাদের আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়া বেশি কঠোরভাবে শাস্তি দিয়েছে, যা বিতর্ককে আরো তীব্র করেছে। ফলে, ম্যাচের রেফারিং বিষয়ক বিতর্ক মূলত সিদ্ধান্তের সঙ্গততা নিয়ে। আইনগতভাবে রেফারি ঠিকই VAR প্রোটোকল অনুসরণ করেছেন, কিন্তু ম্যাচ জুড়ে এটি একরকমভাবে প্রয়োগ করা হয়নি বলেই দর্শক এবং বিশেষজ্ঞদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
এই ম্যাচের ফলাফল আর্জেন্টিনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল, যা তাদের গ্রুপ পর্ব থেকে কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার পথ সুগম করেছে। পরবর্তী ম্যাচে তাদের মুখোমুখি হতে হবে আরো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সাথে, যেখানে রেফারির সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। মিশরের পক্ষ থেকে এখনো এই রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, যা ফুটবল বিশ্বে নিয়ম প্রয়োগ এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু করেছে।