লর্ডসের তৃতীয় একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২৭ রানের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে ভারতের তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ হারল ভারতীয় দল। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মাধ্যম রেভস্পোর্টস (RevSportz) জানিয়েছে, এই ম্যাচে রোহিত শর্মা ১১০ বল থেকে ১৩৮ রানের ঝড়ো ইনিংস খেললেও ভারতের দাপট শেষ পর্যন্ত ইংলিশ বোলারদের সামনে থেমে গেল।
ভারতের অধিনায়ক শুভমন গিল ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে রোহিত শর্মার আগামী দিনের পরিকল্পনা নিয়ে সক্রিয় গুজব উড়িয়ে দিলেন। তিনি বলেন, “রোহিত ভাই আমাদের কিছুই বলেননি যে এটা তার শেষ ম্যাচ হবে। সবটাই মিডিয়ার কথাবার্তা মাত্র।” গিলের কথায়, “আমরা ৪৫ ওভারের আগ পর্যন্ত ভালো অবস্থানে ছিলাম। কিন্তু বিশেষ করে পাওয়ারপ্লেতে বোলিংয়ের দুর্বলতা আমাদের ধরা দিয়েছে। ইংল্যান্ডের ওপেনাররা পাওয়ারপ্লের পর দারুণ খেলায় সুবিধা নেয় এবং ম্যাচে নিজেদের প্রাধান্য বজায় রাখে। শেষের ওভারগুলোতেও তারা আমাদের থেকে অনেক এগিয়ে ছিল।”
এই ম্যাচে ইংল্যান্ড প্রথমে ব্যাট করে বিশাল ৩৮৭/৩ রান সংগ্রহ করে। বেন ডাকেট ১৪১ রানে দলের জয় নিশ্চিত করেন, জ্যাকব বেটহেল ৯১ এবং জো রুট ৭৪ রান অপরাজিত থাকেন। ভারতের পক্ষে প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা ২ উইকেট নেন এবং প্রিন্স যাদব ১ উইকেট নেন।
টার্গেটে নামা ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের মধ্যে রোহিত শর্মার ১৩৮, শুভমন গিলের ৭৭ এবং বিরাট কোহলির ৭৪ রান উল্লেখযোগ্য। তবে মাঝের ওভারে ধারাবাহিক উইকেট পতনের ফলে ভারত শেষ পর্যন্ত ৩৬০/৭ রান সংগ্রহ করে ইংল্যান্ডের কাছে ২৭ রানে হেরে যায়।
গিল বলেন, “আমরা মনে করেছিলাম ৪০ ওভারের পর উইকেট হাতে থাকলে ম্যাচে ফিরে আসার সুযোগ থাকবে। পাওয়ারপ্লের পর আমরা রান সংগ্রহ শুরু করেছিলাম এবং রান রেট ছিল ছয় ছয় দেড়ের মধ্যে। শেষ ১০ ওভারে ১০০-১১০ রান ধরে নিতে পারলে ফলাফল ভিন্ন হতে পারত।”
ভারতের এই পারফরম্যান্স থেকে অনেক ইতিবাচক দিক পাওয়া গিয়েছে, বিশেষ করে রোহিত ও কোহলির ব্যাটিংয়ে। গিল বলেন, “রোহিত এবং কোহলি বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। আজকের রোহিতের ব্যাটিং একদম অনবদ্য ছিল।”
এই খবরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ
- রোহিত শর্মার অবসর সংক্রান্ত গুজব উড়িয়ে দিয়ে দলের মধ্যে সুসংগতি বজায় রাখার বার্তা।
- টুর্নামেন্টে ভারতীয় দলের পাওয়ারপ্লে বোলিংয়ে দুর্বলতা স্পষ্ট হওয়া, যা ভবিষ্যতের জন্য সমাধানের ইঙ্গিত।
- লর্ডসে ভারতের প্রথম শতক করে রোহিতের ব্যাটিং ইতিহাসে নতুন অধ্যায় সৃষ্টি।
- সিরিজ হারের পরও দলের তরুণ অধিনায়কের ইতিবাচক মনোভাব এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা।
- আগামী ম্যাচ ও সিরিজে ইংল্যান্ডের শক্তিশালী ব্যাটিং একাদশের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার প্রয়োজনীয়তা।