ঈদুল আজহা মানেই কোরবানি, আর কোরবানি মানেই চামড়া নিয়ে ব্যস্ততা। এবার সেই চামড়া ব্যবস্থাপনায় বেশ কয়েকটা বড় সিদ্ধান্ত নিল সরকার। জানা গেছে, কোরবানির পর সাত দিন ঢাকার বাইরে থেকে কোনো চামড়া ঢাকায় ঢুকতে পারবে না।
শুধু তা-ই নয়, এবার গরুর চামড়ার দামও বাড়ানো হয়েছে। ঢাকার ভেতরে প্রতি বর্গফুট ৬২ থেকে ৬৭ টাকা আর ঢাকার বাইরে ৫৭ থেকে ৬২ টাকা। গত বছরের চেয়ে ঢাকায় ২ টাকা ও ঢাকার বাইরেও ২ টাকা বেড়েছে প্রতি বর্গফুটে।
এবার চামড়ার আকার আর দাম কত হতে পারে?
ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সাবের হোসেন ভুইয়া জানান, গরুর চামড়া সাধারণত ২০ থেকে ৪৫ বর্গফুট হয়। ছোট গরুর চামড়া ২০-২২ বর্গফুট, মাঝারি ২০-২৮ বর্গফুট, বড় গরুর ৩০-৪০ বর্গফুট এবং অতিরিক্ত বড় গরুর ৫০ বর্গফুট পর্যন্ত হতে পারে। হিসাব অনুযায়ী, একটা গরুর চামড়ার দাম পড়তে পারে ১২০০ টাকা থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত।
আর খাসির চামড়া? সারা দেশে প্রতি বর্গফুট ২৫-৩০ টাকা আর বকরির চামড়া ২২-২৫ টাকা। খাসির চামড়া সাধারণত ৩-৬ বর্গফুট হয়, তাই দাম পড়বে ১৫০-২০০ টাকা।
প্রচারও হবে প্রচুর:
সঠিকভাবে চামড়া ছাড়ানো, সংগ্রহ ও সংরক্ষণে এবার ব্যাপক প্রচার চালাবে সরকার। টেলিভিশন কমার্শিয়াল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সরকারি ওয়েবসাইটে পপ-আপ নোটিশ, এমনকি এসএমএস পাঠানো হবে। আর হাটে হাটে বসানো হবে ব্যানার। বিসিকের লেদার সেলের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান জানান, সারা দেশে প্রায় ২ লাখ লিফলেট বিতরণ করা হবে।
কেন চামড়া ঢুকতে দেওয়া হবে না?
চামড়া শিল্পনগরীতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা আর কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগারের (সিইটিপি) সক্ষমতার বাইরে যাতে চামড়া না আসে, সেজন্যই এই সিদ্ধান্ত। কোরবানির পর সাতদিন ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ ও টোল প্লাজায় কড়া নজরদারি থাকবে। তবে স্থানীয়ভাবে চামড়া সংরক্ষণের জন্য আড়ত ও অস্থায়ী জায়গা তৈরি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সার্বিক মনিটরিং ও নিরাপত্তা:
চামড়া ব্যবস্থাপনার সবকিছু—লবণ সরবরাহ, সংগ্রহ, দাম, পরিবহন ও সংরক্ষণ—মনিটরিং করবে শিল্প, বাণিজ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় আর জননিরাপত্তা বিভাগের যৌথ টিম। অন্যদিকে, অবৈধ পশু প্রবেশ, চামড়া পাচার, চাঁদাবাজি ও গুজব ঠেকাতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর চামড়া শিল্পনগরীর নিরাপত্তায় থাকবে শিল্পাঞ্চল পুলিশ।
