বিনোদন ডেস্ক: দেশের চলচ্চিত্র শিল্পে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি আর কাঠামোগত সংস্কার—এই তিন বিষয়কে সামনে রেখে নতুন সরকারের কাছে নিজের প্রত্যাশার কথা জানালেন জনপ্রিয় ও জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা শাকিব খান। এক সাক্ষাৎকারে তিনি খোলামেলা ভাষায় বলেন, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ঘিরে বিতর্ক নতুন কিছু নয়; বহুদিন ধরেই বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং পক্ষপাতিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

পুরস্কার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা চাই

সম্প্রতি দেওয়া সাক্ষাৎকারে শাকিব স্পষ্ট জানান, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের বিচার প্রক্রিয়া পুরোপুরি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হতে হবে। তাঁর মতে, মূল্যায়নের নির্দিষ্ট মানদণ্ড তৈরি করা জরুরি। পাশাপাশি বাইরের প্রভাব ঠেকাতে কঠোর নীতি নেওয়া উচিত। তাহলেই প্রকৃত যোগ্যরা সম্মান পাবেন—এমনটাই বিশ্বাস তাঁর।

অনুদান বণ্টনে সংস্কারের প্রস্তাব

সরকারি অনুদান প্রসঙ্গেও একই সুর শোনা যায় তাঁর বক্তব্যে। শাকিব বলেন, অনুদান বণ্টনে স্বজনপোষণ বা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ কমাতে হলে নির্বাচন কমিটিকে আরও স্বচ্ছ হতে হবে। অনলাইন স্কোরিং ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে। পাশাপাশি ফলাফলের বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করলে সবাই বুঝতে পারবেন কিসের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে প্রকৃত প্রতিভাবান নির্মাতারা উৎসাহিত হবেন বলে মনে করেন তিনি।

কমে যাচ্ছে সিনেমা হল

দেশে দ্রুত কমে যাওয়া সিনেমা হল নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এই তারকা। অতীতে সারা বাংলাদেশে প্রেক্ষাগৃহ বাড়ানোর নানা ঘোষণা এলেও বাস্তবে অগ্রগতি খুব একটা হয়নি—এমন মন্তব্য করেন ‘তাণ্ডব’-এর নায়ক। সরকারের কাছে তাঁর আবেদন, নতুন প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণ এবং পুরনো হল সংস্কারে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নেওয়া হোক।

স্বল্প সুদে ঋণ, কর ছাড় এবং পুনর্গঠন তহবিলের মতো সহায়তা বন্ধ ও জরাজীর্ণ হলগুলোকে আবার সচল করতে পারে বলে মত তাঁর।

মাল্টিপ্লেক্স ও মিনি থিয়েটারের প্রস্তাব

আধুনিক মাল্টিপ্লেক্স তৈরিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বাড়ানোর কথাও বলেন শাকিব। যেসব জেলায় সিনেমা হল নেই, সেখানে ছোট ডিজিটাল মিনি থিয়েটার গড়ে তোলা যেতে পারে। এতে নির্মাণ ব্যয় কমবে, স্থানীয় উদ্যোক্তারাও যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।

তিনি আরও প্রস্তাব দেন—আমদানিকৃত প্রজেকশন ও সাউন্ড যন্ত্রপাতিতে শুল্ক কমানো, জমি লিজে বিশেষ সুবিধা এবং ভ্যাট ছাড় দিলে বিনিয়োগ বাড়তে পারে।

প্রযুক্তি উন্নয়ন ও দর্শক ফেরানোর পরিকল্পনা

‘প্রিন্স’ খ্যাত এই অভিনেতার মতে, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি। ডিজিটাল প্রজেকশন, উন্নত সাউন্ড সিস্টেম এবং অনলাইন টিকিটিং চালু হলে দর্শকের অভিজ্ঞতা অনেক ভালো হবে। তাতে মানুষ আবার প্রেক্ষাগৃহমুখী হতে পারেন।

দর্শক টানতে দেশীয় ছবির জন্য নির্দিষ্ট প্রদর্শনী কোটা, উৎসবভিত্তিক বিশেষ শো এবং পারিবারিক দর্শকদের উপযোগী কনটেন্ট তৈরির ওপরও জোর দেন তিনি। শাকিবের মতে, সিনেমা হল শুধু ছবি দেখার জায়গা নয়—এগুলোকে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। সেখানে উৎসব, অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজন হলে দর্শকের সঙ্গে হলের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।

 

news