কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার ভারতে বিভেদ-বৈষম্য আরও বাড়াবে: বিশেষজ্ঞ

গত বছর ভারতের রাজধানী দিল্লিতে মারাত্মক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়। পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় জড়িতদের সনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে পুলিশ এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে। ২০২০ সালে দিল্লির আরও ভয়াবহ দাঙ্গার ঘটনার পর এটি হলো এ প্রযুক্তির দ্বিতীয় ব্যবহার। উভয় দাঙ্গায় যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে তাদের অধিকাংশই হলেন মুসলমান। 

ভারতের একটি নেতৃস্থানীয় মানবাধিকার গ্রুপ ও টেক বিশেষজ্ঞরা এর সমালোচনা করেছেন। তারা বলেছেন যে, দিল্লি ও দেশের অন্যান্যস্থানে এমন ঘটনার ক্ষেত্রে গরীব লোকজন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যবৃন্দ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে টার্গেট করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

ভারতের কর্তৃপক্ষ বলছে যে, ভারতে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার দক্ষতা বাড়াবে এবং অভিগমন ক্ষমতা বিকশিত করবে। তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা আশংকা করছেন, এআই ব্যবহারের কোনো সরকারি নৈতিকতার বিধি না থাকা এবং সেই পুরানো আমল থেকে চলে আসা পক্ষপাতিত্বের কারণে এর মাধ্যমে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদেরকে অপরাধী ও দোষী সাব্যস্ত করা হবে। আর এর প্রায় সব সুবিধাই ভোগ করবে দেশটির ধনীরা।

গবেষক শিভাঙ্গী নারায়ন বলেন, এ প্রযুক্তির ব্যবহারের কারণে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন প্রান্তিক শ্রেণীর লোকজন। অর্থাৎ দলিত, মুসলমান ও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষেরা। দিল্লির পুলিশের নীতির বিষয়ক এ গবেষক আরও বলেন, এতে তাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব ও বৈষম্য আরও বাড়বে।

‘আপনি যদি চাটবুটকে ২০জন ভারতীয় ডাক্তার ও প্রফেসরের নাম জিঙ্গেস করেন তাহলে সে হিন্দু উচ্চবর্ণের লোকদের নামগুলোর পদবি বলবে। এআই প্রযুক্তি যে কত পক্ষপাত ও বৈষম্যমূলকভাবে উত্থাপিত হতে পারে এ উপাত্ত হলো তার একটি মাত্র উদাহরণ।’

ভারতের ক্রিমিনাল ডাটাবেজ বিশেষভাবে সমস্যাপূর্ণ। কারণ পুলিশ অন্যদের তুলনায় মুসলিম, দলিত ও আদিবাসী লোকজনকেই বেশি মাত্রায় দোষী সাব্যস্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়ে থাকে। সরকারি উপাত্তে এ কথা বলা হয়েছে।

১৪০ কোটি জনসংখ্যার দেশটি হলো বিশ্বের পঞ্চম বৃহৎ অর্থনীতি। ভারত বিপজ্জনক প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। স্বাস্থ্য থেকে শিক্ষা, কৃষি থেকে ফৌজদারি বিচার প্রক্রিয়া পর্যন্ত সর্বক্ষেত্রে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে যাচ্ছে দেশটি। কিন্তু এর নৈতিক প্রভাব কি হবে তা নিয়ে তেমন একটা আলোচনা করা হচ্ছে না বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

বর্ণ, ধর্ম ও লিঙ্গ ভিত্তিতে বহু আগ থেকেই গভীরভাবে বিভক্ত হয়ে আছে ভারত। সরকারের গবেষণাকর্মের গবেষক নারায়নের মতে, এআই প্রযুক্তির ব্যবহার এ বিভক্তিকে আরও বাড়াবে। সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা

এনবিএস/ওডে/সি

Walton Ads