নেপালের সস্তা চা জনপ্রিয় হওয়ায় দার্জিলিংয়ে উৎপাদন-চাহিদা কমছে!
বিশ্ব বাজারে নেপালের সস্তা চা জনপ্রিয় হয়ে উঠায় দার্জিলিং-এ চা উৎপাদন এবং চাহিদা কমে গেছে যা এ এলাকার ভবিষ্যতকে বিপন্ন করে তুলছে এবং এতে জড়িত শ্রমিকরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
দার্জিলিংয়ের আর্য টি এস্টেটের ব্যবস্থাপক শুভাশীষ রায় সতর্ক করে বলেছেন, দার্জিলিং চায়ের ভবিষ্যত অন্ধকার এবং পরিস্থিতি একরকম থাকলে শেষ হয়ে যাবে বলে মনে হচ্ছে। কয়েক হাজার মানুষ তাদের জীবিকা হারাবে এবং এই ঐতিহ্য চিরতরে হারিয়ে যাবে।
রিংটং চা বাগানের মালিক সঞ্জয় চৌধুরী বলেছেন, ক্রেতার চাহিদা মেটাতে বাগানগুলি সম্পূর্ণ জৈব রূপান্তরিত হওয়ার পর থেকে প্রায় ৪০ শতাংশ চা উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে । বিশেষজ্ঞরা উৎপাদন হ্রাসের জন্য বেশ কয়েকটি কারণকে দায়ী করেছেন। বর্তমান তরুণ প্রজন্ম এই শিল্পে কাজ করার জন্য প্রস্তুত নয় এবং অভিবাসন প্রবলভাবে হওয়ায় আমরা একটি গুরুতর শ্রম ঘাটতিরও সম্মুখীন হচ্ছি। জলবায়ু পরিবর্তন উৎপাদন হ্রাসের আরেকটি কারণ বলেও জানান তিনি।
দার্জিলিং এর প্রিমিয়াম মানের চা বেশিরভাগই রাশিয়া, জাপান, ইরান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় দেশগুলির আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করে। কিন্তু গত পাঁচ বছরে এসব দেশে রপ্তানি কমেছে।
চা বোর্ডের মতে, ২০২২ সালে দার্জিলিং ৩.০২ মিলিয়ন কেজি চা রপ্তানি করেছে বা সমস্ত উৎপাদনের ৪৫.৪৮ শতাংশ, যা ২০১৮ সালে উৎপাদনের ৩.৭১ মিলিয়ন বা ৪৮.২৪ শতাংশ থেকে কম। এমনকি ভারতীয় চায়ের সামগ্রিক রপ্তানি ২০২২ সালে ২২৬.৯৮ মিলিয়ন কেজিতে নেমে এসেছে যা ২০১৭ সালে ২৫১.৯১ মিলিয়ন কেজি ছিল, এটি বলেছে।
দার্জিলিং চা উৎপাদনকারীরা নেপাল এবং ভারতের মধ্যকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে তাদের বাজারের অংশীদারিত্ব কমানোর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করছে।সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা
এনবিএস/ওডে/সি