নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে বসবাসরত ফিলিস্তিনি মানবাধিকার কর্মী মাহমুদ খলিল ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ২০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। তার আইনজীবীরা বৃহস্পতিবার দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করেছেন, কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসরাইল-বিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কারণে খলিলকে "রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে" গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
৩০ বছর বয়সী খলিল, যিনি মার্কিন গ্রিনকার্ডধারী, গত মার্চে স্ত্রী নূর আবদাল্লার সাথে রাতের খাবার শেষে বাড়ি ফেরার পথে ফেডারেল এজেন্টদের দ্বারা গ্রেপ্তার হন। তাকে লুইসিয়ানার একটি অভিবাসন কারাগারে ১০৪ দিন আটকে রাখা হয়। সেখানে তাকে আলসারের ওষুধ দেওয়া হয়নি এবং "অখাদ্য" খাবার দেওয়া হয়েছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
"আমার বিশ্বাসের কারণে আমাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে," খলিল আল জাজিরাকে বলেন। "তারা চেয়েছিল ফিলিস্তিনি অধিকারের জন্য আমার কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করে দিতে।"
মামলায় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি, আইসিই এবং পররাষ্ট্র দপ্তরের বিরুদ্ধে মানহানি, অবৈধ আটক এবং মানসিক যন্ত্রণার অভিযোগ আনা হয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটির মুখপাত্র ট্রিসিয়া ম্যাকলাফলিন খলিলের বিরুদ্ধে "ইহুদি-বিদ্বেষী বক্তব্য" দেওয়ার অভিযোগ এনে দাবিটিকে "অযৌক্তিক" বলে আখ্যায়িত করেছেন।
খলিলের আইনজীবী ড্যানিয়েল টেনি বলেন, "এটি একটি পরিষ্কার সংবিধান লঙ্ঘনের মামলা। সরকার একজন নাগরিককে তার রাজনৈতিক মতাদর্শের জন্য শাস্তি দিতে পারে না।"
জেল থেকে মুক্তির পর খলিল এখনও মানসিক আঘাতে ভুগছেন। তিনি বলেন, "আমি এখনও রাতে বাইরে যেতে ভয় পাই। কিন্তু গাজায় আমার ভাইবোনদের যে যন্ত্রণা, তার তুলনায় এটা কিছুই নয়।"
মামলার ফলাফল যাই হোক না কেন, খলিল জানান তিনি ফিলিস্তিনি অধিকারের জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাবেন। তার নতুন জন্ম নেওয়া শিশুপুত্র দ্বীনকে কোলে নিয়ে তিনি বলেন, "আমি চাই সে এমন বিশ্বে বড় হোক যেখানে ন্যায়বিচার আছে।"
উল্লেখ্য, গাজায় ইসরাইলি হামলায় এ পর্যন্ত ৫৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। খলিলের এই মামলা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফিলিস্তিনি অধিকার আন্দোলনে নতুন প্রেরণা যুগিয়েছে।