ভারতীয় জলসীমায় অনুপ্রবেশের অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গ ও অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল থেকে মোট দুটি বাংলাদেশি মাছ ধরার ট্রলারকে আটক করেছে ভারতীয় উপকূল রক্ষী বাহিনী। এই দুটি ট্রলার থেকে মোট ২৮ জন বাংলাদেশি জেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে একটি ট্রলারে ছিলেন ১৫ জন এবং অন্যটিতে থাকা ১৩ জন জেলে টানা ১৫ দিন ধরে সমুদ্রে অভুক্ত অবস্থায় ভাসছিলেন বলে জানা গেছে।

পশ্চিমবঙ্গে ১৫ জন আটকের ঘটনায় জানা গেছে, গত রবিবার রাতে ‘এফ বি আল্লাহ মালিক’ নামে একটি বাংলাদেশি ট্রলার ভারতীয় জলসীমা অতিক্রম করে মাছ ধরছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

ট্রলারটি দেখে উপকূল রক্ষী বাহিনীর সন্দেহ হয় এবং তারা মৎস্যজীবীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন।

নথি যাচাইয়ের পর বাংলাদেশি ট্রলারটি আটক করা হয়।

পরের দিন সকালে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার ফ্রেজারগঞ্জ কোস্টাল থানার হাতে মৎস্যজীবীদের তুলে দেওয়া হয়।

পুলিশ সূত্রে খবর, আটক মৎস্যজীবীরা সবাই সুস্থ আছেন।

অন্যদিকে, অন্ধ্রপ্রদেশে ১৩ জন আটকের ঘটনাটি ছিল আরও করুণ। অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীকাকুলাম জেলার এচেরলা মণ্ডলের মোসাভানিপেটা উপকূলের কাছে এই বাংলাদেশি মৎস্যজীবীদের গ্রেপ্তার করে শ্রীকাকুলাম জেলার উপকূলীয় নিরাপত্তা পুলিশ।

ভুল করে প্রবেশ: প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, বাংলাদেশের ভোলা জেলার এই ১৩ জন মৎস্যজীবী সমুদ্রে মাছ ধরতে বের হন। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে ভুলবশত সমুদ্রসীমা অতিক্রম করে ট্রলারসহ ভারতীয় জলসীমায় ঢুকে পড়েন।

স্থানীয়দের উদ্ধার: রবিবার স্থানীয় জেলেরা মোসাভানিপেটা উপকূলের কাছে তাদের নৌকা নোঙর করার পর এই বাংলাদেশি মৎস্যজীবীদের দেখতে পান এবং তারা স্থানীয়দের কাছে সাহায্য চান। স্থানীয়রাই প্রথমে অভুক্ত জেলেদের উদ্ধার করে তাদের খাবার, পানি, ওষুধ সরবরাহ করেন এবং পুলিশকে খবর দেন।

পুলিশের তদন্ত: খবর পেয়ে মেরিন পুলিশ সার্কেল ইন্সপেক্টর পি. প্রসাদ রাও এবং স্থানীয় সাব-ইন্সপেক্টর জি. লক্ষ্মণ রাও সহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তারা দ্রুত উপকূলে পৌঁছান।

ভাষাগত সমস্যা ও অভুক্ত থাকা: প্রাথমিকভাবে তাদের ভাষা ও পোশাক দেখে বাংলাদেশি বলে শনাক্ত করা হয়। ভাষাগত সমস্যার কারণে যোগাযোগের অসুবিধা হলেও স্থানীয় কয়েকজন জেলের বাংলা ভাষায় দখল থাকায় পুলিশ তাদের কাছ থেকে যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। জানা যায়, মাঝ সমুদ্রে আটকে পড়ে গত প্রায় ১৫ দিন ধরে তারা অভুক্ত ছিলেন।

আইনি প্রক্রিয়া: পরে উপকূলীয় নিরাপত্তা পুলিশ এই মৎস্যজীবীদের আটক করে পরবর্তী তদন্তের জন্য কলিঙ্গপত্তনম পুলিশ থানায় স্থানান্তরিত করে। যেহেতু তারা অসাবধানতাবশত ভারতীয় সীমানায় ঢুকে পড়েন, তাই তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আটক জেলেরা হলেন: সজীব (২১), জাহাঙ্গের (৩৫), সাব্বির (২৫), কোকন (৩২), মাকসুদ (৪০), মালিক (৮০), মো. ফারুক (৫৫), মাকসুদ (৫০), নাসির (৬৫), হেলাল (২৮), ফারুক (৫০), আলম (৪৬) ও সামেম (২১)। এরা সকলেই বরিশাল বিভাগের ভোলা জেলার বাসিন্দা।

পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য: কলিঙ্গপত্তনম মেরিন সার্কেল ইন্সপেক্টর বি. প্রসাদ রাও বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি যে মৎস্যজীবীরা বাংলাদেশের এবং তাদের ট্রলারে কারিগরি ত্রুটির কারণে তারা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সীমানা (আইএমবিএল) অতিক্রম করেছিল।” তিনি জানান, "গত কয়েকদিন ধরে খাবারের অভাবে শারীরিকভাবেও তারা দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। আমরা তাদের আটক করে প্রয়োজনীয় খাবার ও ওষুধ সরবরাহ করেছি এবং পরে মেরিন থানায় স্থানান্তরিত করেছি।" পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, “আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ভারতীয় দূতাবাসের কর্মকর্তাদেরও অবহিত করেছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুসারে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।”

 

news