ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় অন্তত চারজন নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছেন। সীমান্তঘেঁষা এই শহরে নতুন করে রক্তপাত পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।

মঙ্গলবার ১৩ জানুয়ারি খারকিভ আঞ্চলিক গভর্নর ওলেহ সিনিয়েহুবভ জানান, শহরটি রাশিয়ার সীমান্ত থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ড্রোন হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়িয়েছে।

খারকিভের মেয়র ইহোর তেরেখোভ জানান, একটি দূরপাল্লার রুশ ড্রোন শিশুদের জন্য নির্ধারিত একটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে আঘাত হানে। এতে সেখানে ভয়াবহ আগুন লাগে এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে মস্কোর বিরুদ্ধে যুদ্ধের ‘বিপজ্জনক ও ব্যাখ্যাতীত উত্তেজনা’ বাড়ানোর অভিযোগ তোলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই হামলা চালানো হয়। একই সঙ্গে শান্তি চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তাও কাটেনি।

এদিকে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ গ্রিড পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘ইউক্রেনেগো’ জানিয়েছে, রাতভর রুশ হামলায় অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রাজধানী কিয়েভে জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হয়েছে। কতটা ক্ষতি হয়েছে বা বিদ্যুৎ বিভ্রাট কতদিন চলবে—সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো বলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই রাজধানী তীব্র রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়ে। ইউক্রেন পর্যবেক্ষণকারী টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলোর তথ্যমতে, প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। যদিও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছিল, তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

এর আগে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের উপ-রাষ্ট্রদূত ট্যামি ব্রুস সতর্ক করে বলেন, রাশিয়ার ‘ব্যাখ্যাতীত এই উত্তেজনা’ যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত ও ভয়াবহ করে তুলতে পারে। তিনি শান্তির সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে উভয় পক্ষকে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানান।

যুক্তরাষ্ট্র বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাশিয়ার পারমাণবিক সক্ষম ‘ওরেশনিক’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ঘটনায়। গত সপ্তাহে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনে ব্যাপক হতাহতের দাবি ওঠে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সোমবার দাবি করে, ‘ওরেশনিক’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইউক্রেনের লভিভে একটি বিমান মেরামত কারখানায় হামলা চালানো হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে গেছে। মস্কোর দাবি, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের একটি বাসভবনে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার চেষ্টার জবাব হিসেবেই এই আঘাত। তবে ইউক্রেন এই দাবি অস্বীকার করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র একে ভিত্তিহীন বলেছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাশিয়া শত শত ড্রোন ও ডজনখানেক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইউক্রেনে হামলা চালায়। ওই হামলার পর ইউক্রেনের আহ্বানে ইউএন নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক হয়। সেখানে দ্বিতীয়বারের মতো যুদ্ধক্ষেত্রে ‘ওরেশনিক’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি সামনে আসে, যা ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর প্রতি রাশিয়ার কঠোর বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই হামলার কয়েক দিন আগেই ইউক্রেন ও তার পশ্চিমা মিত্ররা যুদ্ধবিরতির পর দেশটির নিরাপত্তা জোরদারে একটি চুক্তির ইঙ্গিত দিয়েছিল। ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের সেনা মোতায়েনের প্রস্তাবও আলোচনায় ছিল। তবে রাশিয়া স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পশ্চিমা দেশগুলোর পাঠানো যেকোনো বাহিনীকে তারা ‘বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবেই দেখবে।

 

news