ইরানে চলমান অস্থিরতা বেড়ে যাওয়ায় দেশটিতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ত্যাগের কঠোর নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার ইরানের জন্য ভার্চুয়াল মার্কিন দূতাবাস জারি করা নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় মার্কিন নাগরিকদের 'কোনো দেরি না করে' দেশ ছাড়তে বলা হয়েছে।

দূতাবাসের সতর্ক বার্তায় পরিষ্কার ভাষায় বলা হয়েছে, 'এখনই ইরান ছেড়ে দিন'। পাশাপাশি, মার্কিন নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কোনো সাহায্য ছাড়াই দেশত্যাগের পরিকল্পনা করতে বলা হয়েছে।

যারা এখনই ইরান ছাড়তে পারছেন না, তাদের উদ্দেশ্যে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে: 'দেশ ছাড়তে না পারলে নিজ বাসভবন বা অন্য কোনো নিরাপদ স্থানে অবস্থান করুন'।

সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়েছে, ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে—এই সম্ভাবনা মাথায় রেখে বিকল্প যোগাযোগের পদ্ধতি আগে থেকেই ঠিক করে রাখতে হবে। পরিস্থিতি অনুকূলে এলে স্থলপথে আর্মেনিয়া বা তুরস্ক হয়ে ইরান ছাড়ার কথা ভাবতে বলা হয়েছে।

একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়া হয়েছে মার্কিন-ইরানি দ্বৈত নাগরিকদের জন্য। তাদের ইরান ছাড়তে অবশ্যই ইরানি পাসপোর্ট ব্যবহার করতে হবে, কারণ ইরান সরকার দ্বৈত নাগরিকত্ব স্বীকার করে না এবং তাদের শুধুমাত্র ইরানি নাগরিক হিসেবেই দেখে।

ভার্চুয়াল দূতাবাস স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিয়েছে, “ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছে শুধু মার্কিন পাসপোর্ট দেখানো বা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কের প্রমাণই কারো আটকের জন্য যথেষ্ট হতে পারে।”

এদিকে, একই দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ইরানের সাথে ব্যবসা করে—এমন ‘যে কোনো এবং সব দেশের’ উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক বসানো হবে। ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে হস্তক্ষেপ এবং তা দমনে কঠোর হওয়ার অভিযোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

ট্রাম্প ইতিমধ্যেই একাধিকবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, বিক্ষোভ দমনে ইরানি কর্তৃপক্ষ প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহার করলে এর জবাব দেওয়া হবে। তবে তিনি তেহরানের সাথে কূটনৈতিক আলোচনার দরজাও সম্পূর্ণ বন্ধ করেননি।

সোমবার প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন বলছে, প্রচলিত সামরিক হামলা ছাড়াও ইরানের বিরুদ্ধে নেওয়া যেতে পারে—এমন একাধিক বিকল্প উপায় সম্পর্কে ট্রাম্পকে ব্রিফিং দেওয়া হয়েছে।

সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই গোপন ও সামরিক বিকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে সাইবার হামলা ও মনস্তাত্ত্বিক প্রচারণা। এসব অপারেশনের লক্ষ্য হতে পারে ইরানের কমান্ড সিস্টেম, যোগাযোগব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বাধা সৃষ্টি করা।

পেন্টাগনের দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিবিএস নিউজ আরও জানায়, সাইবার ও মনস্তাত্ত্বিক অভিযান আলাদা বা একসাথে চালানো হতে পারে। তবে এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান পরিস্থিতি নিয়ে হালনাগাদ এই বিকল্পগুলো নিয়ে ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা দল মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে আলোচনা করতে পারে।

 

news