যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরায়েলের অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ, যেগুলো ইরানের মাটিতে পড়ে আছে, সেগুলোকে এখন দারুণ কৌশলী সুযোগ হিসেবে দেখছে তেহরান। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অস্ত্রগুলো ইরানের সামরিক শক্তি বাড়ানোর নতুন দরজা খুলে দিচ্ছে।

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টিভি জানিয়েছে, দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী হারমোজগান প্রদেশে ১৫টি ভারী আমেরিকান মিসাইল নিষ্ক্রিয় করেছে। এরপর গবেষণার জন্য সেগুলো বিশেষ কারিগরি ইউনিটে পাঠানো হয়েছে, যাতে করে অস্ত্রগুলোর নকশা আর প্রযুক্তি ভালোভাবে বোঝা যায়। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, এই মিসাইলের মধ্যে শক্তিশালী বাংকার-বিধ্বংসী বোমাও রয়েছে।

এই ধরনের বোমা কিন্তু সাধারণত এক্কেবে সুরক্ষিত জায়গা ধ্বংস করার জন্য বানানো হয়। এর ওজন অনেক বেশি এবং মাটির গভীরে ঢুকে লক্ষ্যভেদ করতে পারে, তাই আধুনিক যুদ্ধে এগুলোকে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র বলে ধরা হয়।

যারা একটু কম বুঝেন, তাদের জন্য বলে রাখি, রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং মানে কোনো অস্ত্র বা মেশিন খুলে তার ভেতরের কারিগরি কৌশল আর ডিজাইন বোঝার প্রক্রিয়া। ইরানের বিশ্লেষকদের মতে, এই পদ্ধতিতে তারা শত্রুর প্রযুক্তি বুঝে সেটা নিজেদের কাজে লাগাতে পারবে।

একটি ইরানি সংবাদমাধ্যমের ভাষ্য, যুদ্ধের মাঠ এখন ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য একটা ল্যাবরেটরির মতো কাজ করছে। অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ থেকে প্রযুক্তি শিখে নতুন কিছু বানানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেই মনে করছেন তারা।

এমনকি ইরানের কিছু বিশ্লেষক তো বলছেন, এই প্রযুক্তি যদি তারা তাদের বন্ধু দেশগুলোর সঙ্গে ভাগ করে নেয়, তাহলে সেটা আরও বড় কৌশলী শক্তিতে পরিণত হতে পারে।

 

news