মস্কো, ২০২৪ সালের জুন: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইউক্রেন সংকট নিয়ে একটি ‘অটল’ ও ‘সতত’ অবস্থান রয়েছে এবং তিনি রাশিয়ার বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনছেন বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সোমবার সাংবাদিকদের জানান, ‘‘ট্রাম্পের ইউক্রেন সংকট নিয়ে ধারনা স্পষ্ট ও অবিচলিত। তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত।’’ গত সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকীতে প্রায় দেড় ঘণ্টা ফোনালাপ করেন ট্রাম্প ও পুতিন।

এই দীর্ঘ আলাপে ইউক্রেন সংকট ছাড়াও ইরান এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়। পেসকভ বলেন, ‘‘ট্রাম্পের অবস্থান সম্পর্কে যে ধরনের গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’’ যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের ফেরত আসার পর ২০২৫ সালের শুরুতে মস্কোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ পুনরায় শুরু হয়। এর ফলে ইউক্রেন সংকটের বিষয়ে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা জোরদার হয়।

এই আলোচনার মাধ্যমে বন্দি বিনিময়, মৃত সৈন্যদের দেহ হস্তান্তর ও শান্তি চুক্তির প্রয়াসে কিছু অগ্রগতি হলেও পুরোপুরি সমাধান আসেনি। এই বছরের শুরুতে ইরানের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ সরে যাওয়ায় আলোচনা ধীরগতিতে চলে গেলেও গত মাসে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে, ওয়াশিংটন ইউক্রেন সংকট শেষ করার চেষ্টা পুনরায় চালু করবে। পেসকভ নিশ্চিত করেছেন, ‘‘দুটি প্রেসিডেন্টের মধ্যে একটি বোঝাপড়া হয়েছে, শীঘ্রই তাদের যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে।’’ রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ন্যাটো সম্মেলনের পার্শ্ববর্তী সময়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে সাক্ষাতের পর ট্রাম্প এই সপ্তাহে পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপও করতে পারেন।

এই সব তথ্য থেকে স্পষ্ট যে, ট্রাম্প ও পুতিনের সংলাপের মাধ্যমে ইউক্রেন সংকটে শান্তির সম্ভাবনা পুনরায় জাগছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে নজর কাড়ছে।

Walton Ads