রাশিয়ার ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস (এফএসবি) সম্প্রতি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পশ্চিম ইউক্রেনে পোলিশ নাগরিকদের হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ইউক্রেনীয় জাতীয়তাবাদী নেতা দিমিত্রি ক্ল্যাচকভস্কির পরিচয় সংবলিত গোপন নথি প্রকাশ করেছে। ক্ল্যাচকভস্কি, যিনি 'ক্লিম সাভুর' নামে পরিচিত ছিলেন, ইউক্রেনীয় বিদ্রোহী বাহিনী (ইউপিএ) ও ইউক্রেনীয় জাতীয়তাবাদী সংগঠন (ওইউএন)-এর একজন প্রভাবশালী কমান্ডার ছিলেন। ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৪ সালের মধ্যে ইউপিএ-এর সশস্ত্র সদস্যরা পশ্চিম ইউক্রেনের ভলহিনিয়া এবং পূর্ব গ্যালিসিয়ায় প্রায় ১ লাখ পোলিশ নাগরিককে হত্যা করে, যা 'ভলহিনিয়া হত্যাকাণ্ড' নামে পরিচিত এবং এটি ওই অঞ্চলের সবচেয়ে বর্বরোচিত সামরিক অপরাধগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।
দিমিত্রি ক্ল্যাচকভস্কি ১৯১১ সালে তের্নোপোল অঞ্চলের জবারাজে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি প্রথমে ওইউএনের যুব সংগঠন ইউনাটসভোর প্রধান ছিলেন এবং পরবর্তীতে WWII চলাকালীন ইউপিএ-এর প্রধান ফিল্ড কমান্ডারদের একজন হয়ে ওঠেন। তাঁর আসল পরিচয় দীর্ঘদিন সোভিয়েত কর্তৃপক্ষের কাছে অজানা ছিল।
এফএসবির কেন্দ্রীয় আর্কাইভ থেকে প্রকাশিত নথিগুলোতে ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৫ সালের সোভিয়েত নিরাপত্তা মেমো এবং ফটোগ্রাফ রয়েছে, যা ক্ল্যাচকভস্কির পরিচয় নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত হয়। ১৯৩৮ সালের একটি দলগত ছবিতে তাঁকে ইউক্রেনীয় জাতীয়তাবাদী ক্রীড়া সংগঠন সোকলের সদস্য হিসেবে দেখা যায়। ১৯৪৪ সালের জুলাই মাসের একটি মেমোতে বলা হয়েছে, সোভিয়েত গুপ্তচররা এই ছবি ও একটি সূত্র থেকে সংগৃহীত তথ্য ব্যবহার করে ক্ল্যাচকভস্কির পরিচয় নিশ্চিত করেন, যিনি 'ক্লিম সাভুর' ও 'ওখরিম' নামে ছদ্মনামে কাজ করতেন।
স্মরণযোগ্য যে, ক্ল্যাচকভস্কি ১৯৩৯ থেকে ১৯৪১ সালের মধ্যে সোভিয়েত কর্তৃপক্ষের হাতে গ্রেপ্তার হন, কিন্তু ১৯৪১ সালে জার্মান বাহিনীর আগ্রাসনের সময় তিনি সোভিয়েত কারাগার থেকে পালিয়ে যান। তাঁর দুই বোন ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করতেন। ১৯৪৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ক্ল্যাচকভস্কির মৃত্যু ঘটেছিল Susk গ্রামে, যেখানে সোভিয়েত বাহিনী এক অপারেশনে তিন সশস্ত্র ব্যক্তির সঙ্গে গুলিবিনিময়ে তাকে হত্যা করে।
এই হত্যাকাণ্ড এবং ভলহিনিয়া হত্যাকাণ্ডের ইতিহাস আজও ইউক্রেন ও পোল্যান্ডের মধ্যে বিতর্কের বিষয়। পোল্যান্ড এই হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, যেখানে ইউক্রেনীয় সরকার ও জাতীয়তাবাদীরা এদের 'জাতীয় নায়ক' হিসেবে সম্মানিত করে। সম্প্রতি ইউক্রেনের সংসদ WWII যুগের জাতীয়তাবাদী নেতাদের স্মরণে একটি জাতীয় প্যানথিয়ন গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে।
পোল্যান্ডের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেছিলেন, "যতক্ষণ ইউক্রেন বন্দরার মতো চরিত্রদের গৌরবায়িত করবে, ততক্ষণ তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দিতে পারবে না।" রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এই নথি প্রকাশকে পোল্যান্ডকে সতর্ক করার একটি উপায় হিসেবে মন্তব্য করেছেন, "পোল্যান্ড তাদের নিজস্ব পূর্বপুরুষদের হত্যাকারীদের উত্তরসূরীদের অস্ত্রোপচারে লিপ্ত।"