ফ্রান্সের প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ মেরিন লে পেন ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পেলেন। গতকাল, প্যারিস আপিল কোর্ট her বিরুদ্ধে ইউরোপীয় সংসদের তহবিল অপব্যবহারের অভিযোগে দেওয়া দণ্ড মেনে নিলেও নির্বাচন থেকে বহিষ্কারের সময়সীমা কমিয়ে ৪৫ মাসে নামিয়ে আনে, যার মধ্যে ৩০ মাস স্থগিত রাখা হয়েছে। ফলে তিনি ২০২৭ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন।

কে: মেরিন লে পেন, তিনবারের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ও ন্যাশনাল র‍্যালি দলের নেত্রী। কী: ইউরোপীয় সংসদের তহবিল অপব্যবহারের দণ্ড বহাল থাকলেও নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য বাধা কমানো হয়েছে। কখন: আপিল কোর্টের এ সিদ্ধান্ত মঙ্গলবার প্যারিসে ঘোষণা করা হয়।

কোথায়: প্যারিস, ফ্রান্স। কেন: ইউরোপীয় সংসদের তহবিল মূলত পার্লামেন্টারি সহকারীদের জন্য বরাদ্দ ছিল, যা লে পেনের দলের কর্মীদের বেতন হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। কিভাবে: আদালত ৫ বছরের নির্বাচনী নিষেধাজ্ঞাকে কমিয়ে ৪৫ মাসে নামিয়েছে এবং ৩ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে, যার মধ্যে ২ বছর স্থগিত এবং বাকি ১ বছর বাড়িতে ইলেকট্রনিক মনিটরিংয়ের মাধ্যমে পালন করতে হবে।

আদালতের তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্নীতিতে ইউরোপীয় সংসদ ২.৮ মিলিয়ন ইউরো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ন্যাশনাল র‍্যালি পার্টিকেও ২ মিলিয়ন ইউরো জরিমানা করা হয়েছে, যার অর্ধেক স্থগিত। লে পেন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন, ‘‘আমি কোন ভুল করিনি।’’ আপিল কোর্টের রায়ের পর তিনি সংবাদদাতাদের সঙ্গে কথা বলেননি, তবে পরে একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকার দেওয়ার কথা ছিল।

লে পেনের আইনজীবী রোডলফ বোসেলুট এই সিদ্ধান্তকে ‘‘একটি ভালো সূচনা’’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন, ‘‘আমরা এখনও সিদ্ধান্ত নেইনি যে কোর্ট অফ ক্যাসেশন পর্যন্ত আপিল করা হবে কিনা।’’ ইউরোপীয় সংসদের আইনজীবী প্যাট্রিক মেইসনেভ মন্তব্য করেছেন, ‘‘এটি প্রমাণ করে যে বিচারব্যবস্থা স্বাধীন।’’ লে পেন ২০১১ সালে তার পিতৃসত্তার থেকে ন্যাশনাল ফ্রন্টের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০১৮ সালে দলের নাম পরিবর্তন করে ন্যাশনাল র‍্যালি করেন, যা আজ ফ্রান্সের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে পরিচিত। ২০২৭ সালের নির্বাচনে লে পেন এবং তার প্রোটেজ জর্ডান বারডেলা দুজনকেই শীর্ষ প্রার্থী হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। এই রায়ের মাধ্যমে মেরিন লে পেনের রাজনৈতিক জার্নিতে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, যা আগামী ফ্রান্সের নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

Walton Ads