চীন তার কোম্পানিগুলোকে রাশিয়ার জ্বালানি সামগ্রী ক্রেতাদের উপর আমেরিকার সম্ভাব্য ১০০% শুল্ক থেকে সুরক্ষা দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। বুধবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে প্রস্তাবিত এই শুল্ক ব্যবস্থা চীনের ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে একতরফা চাপ সৃষ্টি করবে এবং এর ফলাফল আমেরিকার জন্য নেতিবাচক হবে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরটি (RT) জানিয়েছে, এই আইন প্রস্তাবটি আমেরিকার সিনেটে মঙ্গলবার উপস্থাপন করা হয়, যা রাশিয়ার প্রধান তেল ও গ্যাস আমদানিকারকদের, বিশেষ করে চীনসহ, ১০০% পর্যন্ত শুল্ক আরোপের অনুমোদন দেবে। লিন জিয়ান বলেন, চীন একতরফা নিষেধাজ্ঞার কঠোর বিরোধী, যা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া প্রয়োগ করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, চীন তার ব্যবসায়ীদের বৈধ অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
এই সংশোধিত শুল্ক প্রস্তাবটি প্রাথমিকভাবে প্রস্তাব করেছিলেন প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম, যিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের জন্য পরিচিত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর এই প্রস্তাবটি পুনরায় উত্থাপিত হয়েছে। আইনটি কার্যকর হলে, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার জ্বালানি সামগ্রী ক্রেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পাবেন।
চীন এবং ভারত এই শুল্কের সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত দেশগুলোর মধ্যে থাকবে। উল্লেখযোগ্য যে, মাত্র দুই মাস আগে আমেরিকা ও চীন একটি বাণিজ্য কাঠামোতে স্বাক্ষর করেছিল, যা দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্য যুদ্ধের উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে ছিল। বাণিজ্যযুদ্ধে আমেরিকা চীনের আমদানিতে ১৪৫% পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিল, যার জবাবে চীন আমেরিকার পণ্যে ১২৫% পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিল।
এই বিবাদের সময় চীন বিরল পৃথিবী খনিজ রপ্তানি সীমিত করেছিল, যা আমেরিকার উচ্চ প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা শিল্পকে প্রভাবিত করেছিল এবং আমেরিকান নির্মাতাদের উৎপাদন স্থগিত করতে বাধ্য করেছিল।
এই খবরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ
এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও কূটনীতির জটিলতা এবং শক্তির সংঘর্ষের একটি নতুন অধ্যায় সূচিত করছে। চীনের শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া এবং আমেরিকার কঠোর শুল্ক নীতির মধ্যে উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতির উপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি, এটি বড় অর্থনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে বাণিজ্য সংকটের সংকেত দেয়, যা গ্লোবাল সাপ্লাই চেইন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে পুনরায় সাজাতে বাধ্য করতে পারে।