দুই হাজার ছাব্বিশ সালে তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনে ঘটে এক অদ্ভুত ঘটনা। গোয়েন্দারা খবর পান, ট্রাম্পের ওপর ইরানের গুপ্তহত্যার সুনির্দিষ্ট ঝুঁকি রয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে সবাই জানত তিনি ফিরছেন বিশাল বিমানে। কিন্তু গোপনে তাকে স্থানান্তর করা হয় ছোট একটি বিমানে। সাংবাদিকরা জানতেই পারেননি ট্রাম্প কোথায় আছেন।
দুই হাজার ষোলো সালের উনত্রিশে এপ্রিল, পরিস্থিতি ছিল একেবারেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ক্যালিফোর্নিয়ায় রিপাবলিকান কনভেনশনে বিক্ষোভকারীরা চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলেছিল। মূল পথ দিয়ে ঢোকা ছিল অসম্ভব এক ব্যাপার। নিরাপত্তার খাতিরে বিলিয়নেয়ার ট্রাম্পকে হোটেলের নিচু দেয়াল টপকাতে হয়। সার্ভিস এন্ট্রান্স দিয়ে প্রবেশ ছিল এক অভাবনীয় দৃশ্য।
দুই হাজার বিশ সালে জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডের পর পুরো আমেরিকা বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা হোয়াইট হাউসের খুব কাছে পৌঁছে গেলে শুরু হয় আতঙ্ক। বাধ্য হয়ে সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টরা ট্রাম্পকে নিয়ে যায় আন্ডারগ্রাউন্ড বাংকারে। প্রায় এক ঘণ্টা সেখানে ছিলেন তিনি, যা তাকে দেয় 'বাংকার বয়' উপাধি।
দুই হাজার চব্বিশ সালের পনেরোই সেপ্টেম্বর ফ্লোরিডার গলফ কোর্সে ট্রাম্প খেলছিলেন। হঠাৎই এজেন্টদের নজরে পড়ে ৪০০ গজ দূরে একজন সন্দেহভাজন বন্দুকধারী। মুহূর্তের মধ্যে তাকে ঘিরে ফেলে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয় ফাস্ট কার্টে। বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যান তিনি, যা বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল।
নির্বাচনের পর ট্রাম্প তার পরিবার নিয়ে যান নিউইয়র্কের বিখ্যাত ২১ ক্লাবে। সেখানে সাধারণ একটি ডিনারও হয়ে ওঠে বড় ধরনের নিরাপত্তা অভিযান। কৌতূহলী ফটোগ্রাফারদের আড়াল করতে অদ্ভুত এক কৌশল নেন এজেন্টরা। রেস্তোরাঁর বাইরে বসিয়ে দেওয়া হয় ময়লার বড় ডাম্পস্টার, যা হয়ে ওঠে অদৃশ্য ঢাল।
শেষে, ট্রাম্পের এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে ক্ষমতার নিরাপত্তা সবসময় প্রথাগত হয় না। অনেক সময় অকল্পনীয় বা অদ্ভুত কৌশলেই বাঁচানো হয় বড় বড় নেতাদের প্রাণ। নিরাপত্তার এই অদৃশ্য লড়াইয়ের গল্পগুলো আসলেই বেশ রোমাঞ্চকর।