ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার বিভিন্ন বেসামরিক অঞ্চলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে নিরীহ মানুষ হত্যা করছে। তবে রুশ সামরিক বাহিনী ধৈর্যের সঙ্গে এসব সন্ত্রাসী হামলা প্রতিহত করছে এবং নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে বীরদর্পে এগিয়ে চলেছে। একই সঙ্গে রাশিয়া পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার জাল ভেদ করে নিজস্ব বাণিজ্যে নতুন অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি প্রদর্শন করছে। "পশ্চিমের সব নিষেধাজ্ঞা আর ষড়যন্ত্র বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কীভাবে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে রাশিয়া? কেন পুতিনের একটিমাত্র হুশিয়ারিতে কাঁপছে ন্যাটো বাহিনী? 

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্প্রতি তাদের সামরিক বাহিনীতে নারী সেনাসদস্যদের অংশগ্রহণের এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। বিশেষ করে মানবহীন আকাশযান বা ড্রোন চালনায় নারীদের অংশগ্রহণ এখন এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। রুশ সামরিক বাহিনীর নতুন এই পদক্ষেপ যুদ্ধক্ষেত্রে জেন্ডার ভূমিকার একটি দারুণ পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। এর মাধ্যমে রুশ বাহিনীতে নানামুখী দক্ষতার বিকাশ ঘটছে।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক ভিডিও ক্লিপে দেখা গেছে এক তরুণী ড্রোন পাইলটকে, যিনি ইউক্রেনীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে সফল এক অভিযানের বিবরণ দিচ্ছেন। মন্ত্রণালয় তাকে বর্ণনা করেছে এমন এক সুদর্শনী তরুণী হিসেবে, যার ভেতরে রয়েছে ইস্পাতকঠিন মনোবল। যুদ্ধক্ষেত্রের এমন কঠোর বাস্তবতায় নারীদের এই সাহসিকতা পুরো বিশ্বে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ওই নারী পাইলট ব্যাখ্যা করেছেন কীভাবে স্বল্প পাল্লার মানবহীন আকাশযান বা ড্রোনগুলো ডননেটস্ক পিপলস রিপাবলিকের বেলিতসকয়ে শহর মুক্ত করার অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। উল্লেখ্য যে, এই শহরটি রাশিয়ান বাহিনী প্রায় তিন সপ্তাহ আগেই সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল। এই ধরনের আধুনিক ড্রোনের নিখুঁত ব্যবহারই রুশ সেনাদের বিজয় ত্বরান্বিত করেছে।

এর আগে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল যে, এই সামরিক অভিযানের জন্য একাধিক ড্রোন ইউনিটকে একসঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হয়েছিল। মূল আক্রমণকারী বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য এই ড্রোনগুলো অত্যন্ত নিপুণভাবে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও হামলা পরিচালনা করেছে। এই ধরনের সফল অভিযানের প্রশংসা করে রাশিয়া সম্প্রতি বেশ কয়েকটি প্রামাণ্য ভিডিও প্রকাশ করেছে।

রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীতে নারীদের উপস্থিতি নতুন কিছু নয়, কারণ বিগত কয়েক দশক ধরেই তারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তবে তাদের বেশিরভাগই সাধারণত যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ, রসদ সরবরাহকারী বা চিকিৎসাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। বিশেষ করে সম্মুখ সমরক্ষেত্রের কাছাকাছি থাকা নার্সদের সাহসিকতা সব সময়ই প্রশংসিত হয়েছে।

তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় চিত্রটি সম্পূর্ণ আলাদা ছিল, কারণ সেই সময়ে নারীদের জন্য সামরিক বাহিনীর প্রায় সব শাখায় অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ত ছিল। সেই যুগে জন্ম নিয়েছিল ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা কিছু নাম, যেমন—বিখ্যাত স্নাইপার লুদমিলা পাভলিকেনকো (Lyudmila Pavlichenko)। এ ছাড়া ‘নাইট উইচেস’ নামে পরিচিত সর্বমহিলা রাতের বোমারু রেজিমেন্টের বীরত্ব আজও স্মরণ করা হয়।

বর্তমান ইউক্রেন সংঘাতে ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার এবং সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে ডেডিকেটেড আনম্যান্ড সিস্টেম ট্রুপস বা মানবহীন সিস্টেম বাহিনী গঠনের ফলে রুশ জেনারেলদের মানসিকতায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নারীরা এখন কেবল সহায়ক ভূমিকায় নয়, বরং সরাসরি সম্মুখ সমরের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও কৌশলগত দায়িত্বগুলোও অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পালন করছেন।

গত মার্চ মাসে সামরিক বাহিনীর অফিসিয়াল প্রকাশনা ‘ক্রাসনায়া গভজেদা’ বা রেড স্টার পত্রিকায় বায়ানা (Bayana) নামের এক নারী ড্রোন পাইলটের জীবনযুদ্ধ নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ছোটবেলায় রেডিও-নিয়ন্ত্রিত গাড়ি এবং বিমানের প্রতি গভীর অনুরাগী এই নারী পরবর্তী সময়ে নিজের স্বপ্ন পূরণের পথ বেছে নেন। তারই ধারাবাহিকতায় তিনি ড্রোন এস বা দক্ষ চালক হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন।

রাশিয়ার প্রচলিত সামরিক বাহিনীতে নারীদের অংশগ্রহণের এই সুযোগ তৈরি হওয়ায় দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু তাই নয়, এটি বিশ্ববাসীর সামনে রুশ সামরিক কাঠামোর আধুনিকায়ন ও প্রগতির এক অনন্য নিদর্শন স্থাপন করেছে। দেশের সুরক্ষায় নারী ও পুরুষ উভয়ের সমান অংশগ্রহণ আজ রাশিয়াকে আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।

অন্যদিকে, ইউক্রেন সংঘাতের পর পশ্চিমা বিশ্বের এসডব্লিউআইএফটি বা SWIFT নেটওয়ার্ক যেভাবে রাজনৈতিক চাপের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে, তা আজ বিশ্ব অর্থনীতির এক বড় উদ্বেগের বিষয়। পমসোভিয়াজব্যাংক বা PSB-এর প্রধান পেয়োত্র ফ্রাদকভ (Pyotr Fradkov) সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি জানান যে, পশ্চিমা দেশগুলো তাদের আর্থিক ব্যবস্থাকে অনৈতিক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে।

পেয়োত্র ফ্রাদকভ আরও জানান যে, রাশিয়া নিজের সক্ষমতা দিয়েই একটি সম্পূর্ণ ও স্বাধীন আন্তঃসীমান্ত পেমেন্ট নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পারে, যা উৎপত্তিতে হবে অভ্যন্তরীণ কিন্তু কার্যকারিতায় হবে আন্তর্জাতিক। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এই ধরনের একটি স্বাধীন ব্যবস্থা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছিল। রাশিয়া প্রমাণ করেছে যে তারা বাইরের কোনো শক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়।

২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে PSB ব্যাংক আন্তর্জাতিক লেনদেনের জন্য ‘এ সেভেন’ বা A7 সিস্টেম চালু করেছিল। তাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এই সিস্টেমটি বর্তমানে প্রতিদিন বিভিন্ন আকারের দুই হাজার লেনদেন সফলভাবে পরিচালনা করছে। এমনকি রুশ কোম্পানিগুলোর মোট বৈদেশিক বাণিজ্য বন্দোবস্তের প্রায় কুড়ি শতাংশই এখন এই সিস্টেমের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে।

ফ্রাদকভ ব্যাখ্যা করে বলেন যে, দুই হাজার বাইশ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন সংঘাত বৃদ্ধির পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার ওপর যেসব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, তারই একটি অংশ হিসেবে দেশটির প্রায় সব ব্যাংককে SWIFT নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। এই ঘটনার পরেই পরিষ্কার হয়ে যায় যে পশ্চিমা আর্থিক যন্ত্রগুলো আসলে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার ছাড়া আর কিছুই নয়।

এমন এক বৈরী পরিস্থিতিতে রাশিয়ার নিজস্ব পেমেন্ট কাঠামো তৈরি করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প ছিল না। ফ্রাদকভ অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন যে, রাশিয়ার কাছে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সমাধান এবং আর্থিক সক্ষমতা দুটোই প্রচুর পরিমাণে রয়েছে। আর তাই তারা নিজেদের স্বাধীন আর্থিক ভবিষ্যতের পথে অত্যন্ত সফলভাবে এগিয়ে চলেছে।

তিনি আরও বলেন যে, PSB ব্যাংক এবং এ সেভেন আন্তঃসীমান্ত পেমেন্ট সিস্টেম যৌথভাবে এমন একটি নতুন পেমেন্ট আর্কিটেকচার বা স্থাপত্য নিয়ে কাজ করছে, যেখানে লেনদেনের জন্য কোনো তৃতীয় পক্ষের অনুমোদনের প্রয়োজন হয় না। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে কোনো দেশের পক্ষে আর অনৈতিক বাধা সৃষ্টি করা সম্ভব হবে না।

এ সেভেন সিস্টেমের মূল লক্ষ্য হলো এমন একটি নিজস্ব পেমেন্ট অবকাঠামো তৈরি করা, যা বাহ্যিক কোনো নিষেধাজ্ঞা বা বহিরাগত প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই স্বাধীনভাবে আন্তর্জাতিক অপারেশন পরিচালনা করতে সক্ষম হবে। সিস্টেমটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে বারবার বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও এটি তার ক্লায়েন্টদের লেনদেন অত্যন্ত সফলভাবে প্রক্রিয়াজাত করতে পারে।

আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে ফ্রাদকভ পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, এ সেভেন সিস্টেম ব্যবহারের মাধ্যমে কোনো ধরনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করা হচ্ছে না। কারণ আন্তর্জাতিক পেমেন্ট বা ক্রস-বর্ডার পেমেন্টের ধারণার সঙ্গেই কেবল নিষেধাজ্ঞাগুলো যুক্ত থাকে। এখানে মূলত বিভিন্ন মুদ্রায় বিশ্বব্যাপী বিদ্যমান ডিস্ট্রিবিউটেড লিকুইডিটি পুল বা তারল্যের ভাণ্ডার ব্যবহার করা হয়।

যেসব দেশের সাথে রাশিয়ার ব্যবসা পরিচালিত হয়, তাদের নিজ নিজ আইনি কাঠামোর ভেতরে থেকেই এই ব্যবসা সম্পন্ন হয়। এটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক, প্রমিত ব্যবসা যা সংশ্লিষ্ট দেশের সমস্ত নিয়মকানুন নিখুঁতভাবে মেনে চলে। ফলে পশ্চিমা দেশগুলোর পক্ষে এই ব্যবস্থাকে বেআইনি বা অবৈধ হিসেবে প্রমাণ করার কোনো সুযোগ নেই।

এ সেভেন সিস্টেমটি কেবল নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর জন্যই তৈরি করা হয়নি, বরং এটি আন্তর্জাতিক বাজারে অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ একটি পণ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। অন্যান্য দেশগুলোও এখন রাশিয়ার পাশাপাশি একে অপরের সঙ্গে বাণিজ্য করার জন্য এই সিস্টেমটি অত্যন্ত সুবিধাজনকভাবে ব্যবহার করতে পারছে। এটি বিশ্ব অর্থনীতিতে এক নতুন এবং ভারসাম্যপূর্ণ যুগের সূচনা করেছে।

ব্যাংকার ফ্রাদকভের মতে, নিজস্ব বন্দোবস্ত ব্যবস্থা বা সেটেলমেন্ট সিস্টেম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে রাশিয়া একা নয়, বরং ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল এবং আরও অনেক দেশই এখন একই পথ অনুসরণ করছে। আমরা এমন এক বিশ্ব পরিবর্তনের সাক্ষী হচ্ছি যেখানে পুরোনো আন্তর্জাতিক পেমেন্ট অবকাঠামো ধীরে ধীরে বিভিন্ন জাতীয় সিস্টেমের মাধ্যমে প্রতিস্থাপিত হচ্ছে।

এদিকে রোমানিয়ার পক্ষ থেকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে মস্কো। রোমানিয়ান কর্মকর্তারা দাবি করেছিলেন যে তাদের আকাশসীমায় ভূপাতিত ড্রোনগুলো রাশিয়ার তৈরি। কিন্তু মস্কোর দূতাবাস সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, রোমানিয়া তাদের বর্ধিত সামরিক ব্যয়ের যৌক্তিকতা প্রমাণ করার জন্যই এই ধরনের কাল্পনিক অজুহাত তৈরি করছে।

রোমানিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে রুশ কূটনীতিকদের তথাকথিত প্রমাণ হিসেবে কিছু ফোম প্লাস্টিকের টুকরো দেখানো হয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই রাশিয়া এই হাস্যকর দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং জানিয়েছে যে ড্রোনগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই। এটি মূলত রোমানীয় সরকারের একটি সাজানো নাটক ছাড়া আর কিছুই নয়।

স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমা বিশ্বের কাছ থেকে ব্যয়বহুল অস্ত্র কেনার জন্য এই ধরনের ভূতুড়ে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে আসছে। সাধারণ করদাতাদের কষ্টার্জিত অর্থ অপচয় করে তারা মার্কিন ও পশ্চিমা অস্ত্র প্রস্তুতকারকদের পকেট ভারী করছে। পূর্ব দিক থেকে কোনো এক কাল্পনিক হুমকির অজুহাত তুলেই তারা নিজেদের সামরিক বহর ভারী করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।

মস্কো অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বুখারেস্টকে সতর্ক করে দিয়েছে যে, সম্মিলিত পশ্চিমা শক্তি যদি কাণ্ডজ্ঞানহীন উসকানিমূলক পদক্ষেপ নিতে থাকে, তবে তার পরিণতি কী হতে পারে সে বিষয়ে রোমানিয়াকে পুরোপুরি সচেতন থাকতে হবে। বিনা কারণে রাশিয়ার ওপর দোষ চাপানোর এই অশুভ রাজনীতি বেশিদিন টিকবে না। রাশিয়া যেকোনো উসকানির উপযুক্ত ও কড়া জবাব দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

অন্যদিকে, ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রাসনোদর অঞ্চলে শত শত ড্রোন দিয়ে রাতের আঁধারে কাপুরুষোচিত হামলা চালিয়েছে। স্থানীয় গভর্নর ভেনিয়ামিন কোন্দ্রাতিয়েভ জানিয়েছেন যে এই হামলায় একটি শিশুসহ দুজন নিহত এবং এক ডজনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। নভোরোসিয়স্ক, আনাপা, গেলেনদঝিক এবং তেমরিউকস্কি জেলার বেসামরিক স্থাপনা ও আবাসিক বাড়িঘর এই হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নভোরোসিয়স্ক শহরে ড্রোন হামলায় আট বছর বয়সী একটি নিষ্পাপ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। নভোরোসিয়স্কের মেয়র আন্দ্রেই ক্রাভচেঙ্কো টেলিগ্রামে লিখেছেন যে শহরটি এক ভয়াবহ রাতের মুখোমুখি হয়েছে। ফাশিস্ট মানসিকতার ইউক্রেনীয় বাহিনীর এই অমানবিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আহত শিশু ও তার মাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রাশিয়ার সামরিক বাহিনী অবশ্য বসে নেই। সাম্প্রতিক এক দিনে রুশ বীর সেনানিরা খেরকভ অঞ্চলের ভোদানয়েকে সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন রণাঙ্গনে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে চরম পরাস্ত করেছে। ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী প্রতিদিন হাজার হাজার সেনা এবং শত শত সামরিক সরঞ্জাম হারাচ্ছে। রুশ যুদ্ধাস্ত্রের নিখুঁত আঘাতে কিয়েভ বাহিনীর সমস্ত প্রতিরক্ষা ব্যূহ আজ ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।

রাশিয়ার অদম্য বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেবল গত একদিনেই এক হাজার একষট্টিটি ইউক্রেনীয় মানবহীন আকাশযান এবং মার্কিন আমদানির বেশ কয়েকটি হাইমার্স রকেট সফলভাবে আকাশেই ধ্বংস করেছে। কৃষ্ণ সাগর বহরও ইউক্রেনের আটটি নৌ ড্রোন নিমজ্জিত করেছে। রাশিয়া প্রমাণ করেছে যে তাদের আকাশ এবং সমুদ্র সীমা সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সুরক্ষিত।

যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত রাশিয়া মোট ছয়শ তিয়াত্তরটি যুদ্ধবিমান, দুইশ চুরাশিটি হেলিকপ্টার, দুই লাখের বেশি ড্রোন এবং ত্রিশ হাজারের বেশি ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস করেছে। এই বিশাল পরিসংখ্যানই বলে দেয় যে ইউক্রেনীয় সামরিক অবকাঠামো আজ ধ্বংসের মুখে। রাশিয়ার সুশৃঙ্খল কৌশলগত অগ্রাভিযানের সামনে কিয়েভ বাহিনী পুরোপুরি দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যতই নতুন মোবিলাইজেশন বা সৈন্য সংগ্রহের হুমকি দিন না কেন, কিংবা পশ্চিমা দেশের কাছ থেকে সাহায্যের ভান করুন না কেন, তাতে যুদ্ধের ফলাফল পরিবর্তন হবে না। রাশিয়া তার নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে অটল রয়েছে। পশ্চিমা বিশ্বের সব ষড়যন্ত্র এবং নিষেধাজ্ঞা বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রাশিয়া আজ বিশ্বমঞ্চে এক অপ্রতিরোধ্য অর্থনৈতিক ও সামরিক পরাশক্তি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

Walton Ads