তুরস্কের মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত ৮৪,০০০ ভবন জরুরী ভিত্তিতে ভেঙ্গে ফেলতে হবে

তুরস্ক ও সিরিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে ৪৬,০০০ বেশি নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে তুরস্কে ৪০,৬৪২ জন এবং সিরিয়ায় ৫,৮০০ জন। ৮৪,০০০ বেশি ভবন মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যা জরুরী ভিত্তিতে সম্পুর্ণ উচ্ছেদ করতে হবে, অন্যথায় তা ভেঙ্গে পড়বে। কর্মকর্তারা একথা বলেন। আলজাজিরা

তুরস্ক আধুনিককালের সবচাইতে ভয়াবহ বিপর্যয়ের ঘটনা সামাল দেয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু প্রতিবেশি সিরিয়ার ক্ষতিগ্রস্তদের দুর্ভোগ ও দুর্দশা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে । বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচী সেখানকার হাজার হাজার ভূমিকম্প বিধ্বস্ত মানুষের সহায়তা করার চেষ্টা করছে। তারা সিরিয়ার উত্তরপশ্চিমাঞ্চলে সহায়তা পাঠানোর পথগুলো অবশ্য খোলা রাখা জরুরী।

উদ্ধার কাজ অব্যাহত

কিরগিজিস্তানের একটি উদ্ধার দল শনিবার আনতাকিয়া শহরে ধ্বংসস্তুপের নীচে চাপা পড়া ৫ সদস্যের এক সিরীয় পরিবারকে রক্ষার চেষ্টা করেন। একটি শিশুসহ ৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। মা-বাবা বেঁেচ গেলেও শিশুটি পরে পানি শুণ্যতায় মারা যায়। এদিকে  ভূমিকম্পের সময় জন্ম নেয়া উত্তর সিরিয়ার শিশুটি তার চাচা-চাচির সাথে মিলিত হয়েছে। শিশুটির মা-বাবা ও ভাইবোন ভূমিকম্প মারা গেছে। উদ্ধার কর্মীরা ধুলামাখা শিশুটিকে ধ্বংসস্তুপের নীচ থেকে উদ্ধার করার ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারিত হয়।

এদিকে উদ্ধারকৃত শিশু আব্দুল্লাহ ও আফরা মলেইহান আলেপ্পো প্রদেশের জান্দারিস শহর থেকে উদ্ধার করা অন্য শিশুদের মতো এ শিশুরাও গেছে। শনিবার নবজাতক শিশুটির চাচা হালি চাচী খলিল আল-সাওয়াদী অবশেষে তাদের ভাতিজীকে গ্রহণ করেছেন। তারা ওর নাম রেখেছে আফরা। আফরার মা বেঁচে নেই।

বিশ্ব খাদ্র কর্মসূচী (ডব্লিউএফপি) উত্তরপশ্চিম সিরিয়ার কর্র্র্র্র্তৃপক্ষকে তাদের এলাকায় ত্রান প্রবেশে বাধা না সৃষ্টি করার আহ্বান জানান। সেখানকার ভূমিকম্প বিধ্বস্ত হাজার হাজার মানুষকে সহায়তা প্রদানের চেষ্টা করছে এই সংস্থা। ডব্লিউএফপি পরিচালক বাসলে বলেন, তার সংস্থা ত্রাণ সরবরাহ করছে । তিনি তুরস্ক থেকে আরও সীমান্ত ক্রসিং খোলার আহ্বান জানান।

মিউনিখে বক্তৃতাকালে তিনি বলেন, উত্তরপশ্চিম সিরিয়ায় ত্রাণ সরবরাহের সমস্যা হলো সেখানকার কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় প্রবেশের সুযোগ দিচ্ছে না। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধে এলাকাটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর ভূমিকম্প পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে। প্রেসিডেন্ট বাশারের অনুগতরা ত্রাণকাজে সমস্যার সৃষ্টি করছে।

রোগব্যধি ছড়িয়ে পড়ার আশংকা

ভূমিকম্প  বিধ্বস্ত অঞ্চলে সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশংকা প্রকাশ করেছেন ডাক্তার ও বিশেষজ্ঞরা। তুরস্কের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফাহরেতুন কোসা শনিবার বলেন, পেটের পীড়া ও শ্বাস কষ্টসহ বিভিন্ন ধরণের রোগ বিস্তারের আশংকা বাড়ছে দুর্গত অঞ্চলগুলোতে। মন্ত্রী বলেন, রোগব্যাধি যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সে জন্যে আমরা সংগ্রাম করে যাচ্ছেন তারা।

ভবন নির্মান নিয়ে বাড়ছে ক্ষোভ

তুরস্ক ও সিরিয়ায় ভূমিকম্পের পর এখনো বহু লোক নিখোঁজ রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা তাদের স্বজনদের জন্য এখনো অপেক্ষায় রয়েছেন।

ভবন নির্মানে ত্রুটি ও দুর্নীতি এবং ত্রুটিপূর্ণ নগর উন্নয়নের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। এ কারণে হাজার হাজার বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভেঙ্গে পড়েছে। রোনেসান্স রেজিডান্স হলো এমনই একটি ভবন।আনতাকায়ার এ ভবন উল্টে পড়ে। এতে শত শত লোক নিহত হয়। হামজা আলপাসলানের(৪৭) ভাই ভবনটিতে বাস করতেন। তিনি বলেন, “আপনারা বলবেন যে, ভূমিকম্পে ভবনটি ধ্বংস হয়েছে কিন্ত আপনার অবস্থা দেখুন। কি ভয়ংকর অবস্থা। এতে না আছে সিমেন্ট না আছে রড। সত্যিকার অর্থে এটি ভয়ংকর অবস্থা।

তুরস্ক সরকার ভবন বিধ্বস্তের জন্য দায়ী বলে সন্দেহভাজন প্রত্যেকের বিষয় তদন্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ ছাড়া এ ধরণের শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

 এনবিএস/ওডে/সি

 

 

Walton Ads