৩ হাজার বছরের পুরোনো তাহরির স্কয়ার মিউজিয়ামের সংস্কার কাজ শুরু
মিশরের রাজধানী কায়রোতে অবস্থিত এই মিউজিয়ামটির অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী যেগুলো কিনা দেশটির আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে তা সংগ্রহ করে এখানেই আবার সংরক্ষিত করা হবে। আর এ লক্ষ্যেই প্রথম ধাপের সংস্কার কর্মসূচীটি হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তাহরির স্কয়ার মিউজিয়ামটি ১৯০২ সালে জনসাধারণের জন্য প্রথম খুলে দেওয়া হয়। এটি বিশ্বের অন্যতম একটি শ্রেষ্ট যাদুঘর হিসেবে সুখ্যাতি লাভ করে। এখানে ফারাও সাম্রাজ্যের প্রাচীন ইতিহাস সংরক্ষিত রয়েছে।
দেশটির অন্যতম প্রধান একটি আয়ের উৎস পর্যটন শিল্প। যা থেকে কিনা বৈদেশিক মূদ্রা অ্যায় করে থাকে দেশটি। কিন্ত ২০১১ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতা,কোরোনা মহামারী ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে পর্যটক কমে যাওয়ায় দেশটির অর্থনীতি বেশ ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। আর সেখান থেকে উত্তরণের পন্থা হিসেবে এমন কর্মসূচী হাতে নিয়েছে সরকার।
সোমবার এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পর্যটন মন্ত্রী আহমেদ ইসসা বলেন, চলতি বছরে এই শিল্প ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তাহরির স্কয়ার মিউজিয়ামের এই সংস্কার কাজের অর্থের যোগান দিচ্ছে ইউরোপিয় ইউনিয়নসহ পশ্চিমের পাঁচটি প্রধান যাদুঘর। এর মধ্যে লউভ্রে ও ব্রিটিশ মিউজিয়ামের মত বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান রয়েছে। নতুন আকারে কিছুটা নকশার মধ্যদিয়ে মধ্য উনিশ শতকের ছোঁয়া আনা হবে এসব পুরাকীর্তি গুলতে।
১৯২২ সালে আবিষ্কৃত তুতেনখামেনের সমাধি সৌধটি এরই মধ্যে নতুন এক যাদুঘরে স্থানাতরিত করা হয়। পরে এটিকে দেশটির ৪ কি.মি. দক্ষিণে অবস্থিত গিজার গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান যাদুঘরে পুনস্থাপিত করা হয়। একমাসের মধ্যে এটি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ইসসা জানান, পশ্চিমা অন্যান্য আধুনিক যাদুঘরেরে সঙ্গেও যেন প্রতিযোগিতায় থাকতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রেখে এটির উন্নয়ন কাজ অব্যাহত থাকবে। আধুনিকায়নসহ ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।
যাদুঘরের কর্মকর্তা আবির আব্দুল আজিজ বলেন, সোমবার উদ্বোধনের আগে তাহরির স্কয়ারের বিরল কিছু সামগ্রী জনপ্রকাশ্যে আসেনি। এগুলোর মধ্যে অন্যতম ১০০০ খ্রীষ্টপূর্বের আগ পর্যন্ত শাসক রাজা সুসেনেজের ২১তম বংশ তালিকা।
সুপ্রীম কাউন্সিল প্রত্নতত্বের মহাসচিব মোস্তফা আল ওয়াজিরি জানান, প্রদর্শনের জন্য আরও প্রস্তত রয়েছে ‘ওয়াজিরি ১ পাপিরি নামক ১১৩টি অধ্যায় সম্বলিত পুরোনো একটি বই। এবারেই প্রথম এই বইটি প্রকাশ্যে আনা হবে বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।
এনবিএস/ওডে/সি