মিয়ানমারের ওপর ইইউর নতুন নিষেধাজ্ঞা
দেশের অভ্যন্তরে মানবাধিকার লংঘনের অভিযোগে সেনা শাসিত মিয়ানমারের ১৬ ব্যক্তির সম্পদ জব্দ ও তাদের উপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ)। সাতটি প্রতিষ্ঠানসহ জ্বালানিমন্ত্রী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগ এবং সেনাবাহিনীকে জ্বালানি, অস্ত্র ও তহবিল সরবরাহকারী বেসরকারি বিভিন্ন কোম্পানি। সব মিলিয়ে মিয়ানমারের ৯৩ জন ব্যক্তি ও ১৮টি প্রতিষ্ঠানের ওপর এখন ইইউ নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে।
এছাড়াও নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছেন রাজনীতিবিদ এবং মিয়ানমারের বড় শহর ইয়ানগুনের কয়েকজন প্রশাসক। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো ২০২২ সালের জুলাই মাসে চারজন গণতন্ত্রপন্থী রাজনৈতিক কর্মীর মৃত্যুদণ্ডের জন্য দায়ি এবং যারা গণহত্যা, বিমান হামলা এবং দেশের উত্তরাঞ্চলীয় কাচিন রাজ্যে যারা বেসামরিক লোকদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছেন, তারা রয়েছেন।
সোমবার ইইউ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘যারা সেনা অভ্যুত্থান ও সহিংসতার জন্য দায়ি এবং যারা মানবাধিকার লংঘন করেছেন, তাদেরকে পরিণতি ভোগ করতেই হবে।’
২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতা দখল করার পর যৌন সহিংসতা, নাগরিক সমাজের কর্মী, মানবাধিকার কর্মী, গণমাধ্যমকর্মী এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিপীড়ন সহ অধিকার লঙ্ঘনের নিন্দা করেছে ইইউ। এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে স্কুল ও হাসপাতাদের উপর বিমান হামলার বিষয়টিও।
ইইউ আরোপিত নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে মিয়ানমারের জ্বালানিমন্ত্রী মায়ো মিন্ত ও, সেনাবাহিনীর চিফ-অব-স্টাফ জেনারেল মং মং আই, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মো অং এবং সেনাবাহিনী অস্ত্র সরবরাহক তিনটি কোম্পানির প্রধান।
কাচিন রাজ্যের আঞ্চলিক সামরিক কমান্ডার মে. জে. কো কো মং’র উপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ইয়ানগুনের লে. কর্নেল মায়ো মিন্তের উপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয়েছে। তিনি জান্তাদের বিচারক হিসেবে গণতন্ত্রপন্থী চারজনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন। ইইউ’র বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তার সময়ে বিরোধী দলের বেশ কয়েকজকে ফাঁসি ও সাজা দেওয়া হয়েছে। তিনি ভয়াবহভাবে মানবাধিকার লংঘন করেছেন।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার গত বছর মার্চে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিলেন, মিয়ানমারে অভ্যন্তরীণভাবে প্রায় ১২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং ৭০ হাজারের বেশি মানুষ দেশ ছেড়েছে।
এনবিএস/ওডে/সি