১৫০ বছরে পদার্পণ করতে যাচ্ছে কলকাতার ঐতিহাসিক ট্রাম সেবা
১৯২০ সালে এটি পানি সরবরাহ ও পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যবহৃত হত। পরে এটি গণপরিবহন হিসেবে কাজ শুরু করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাসহ নানা ঐতিহাসিক সময়ের কালের সাক্ষী হয়ে এখনও ঠায় দাঁড়িয়ে আছে এই সেবাটি।
এ সেবাটি আগামী শুক্রবারে উদযাপন করতে যাচ্ছে সার্ধশতবর্ষ। ওয়েষ্ট বেঙ্গল ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনের সাগনিক গুপ্ত জানান, শহরেরে সবচেয়ে পুরোনো একটি গণপরিবহন হিসেবে এটির খ্যাতি রয়েছে। নতুন করে ডাবল বগি ও শীতাতাপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে গাড়িগুলোতে।
তিনি আরও জানান, মার্চে একদল ট্রাম প্রেমিক এ উৎসবটি পালন করতে উদ্যোগী হয়েছেন। ১৯৩০ ও ১৯৪০ সালে কাঠের তৈরি ট্রাম ব্যবহৃত হত। কিন্ত ২০১০ সালে এগুলো ব্যবহারের অনুপোযুগী হয়ে পড়ে। উৎসব ঘিরে নানা আয়োজনের মধ্যে রয়েছে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, রচনা প্রতিযোগিতাসহ ভিক্টরিয়া মেমোরিয়াল থেকে এসপ্লানাডে পর্যন্ত একটি শোভাযাত্রা। এদিকে সেবাটি অব্যাহত রাখতে রাজ্য সরকারকে আবেদনও জানান স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।
মঙ্গলবার বিধানসভায় তিনি বলেন, 'এটি যেন কলকাতা থেকে উঠে না যায় সে দিকে সরকারকে নজর দিতে অনুরোধ করব।'এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন. 'ট্রামের সঙ্গে কলকাতার তথা পশ্চিমবঙ্গের মানুষের আবেগ জড়িয়ে আছে। তাই সরকারের উচিত ট্রাম পরিষেবা বহাল রাখা।'
যোগাযোগমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, 'আমি জোর দিয়ে বলতে পারি সরকারের ট্রাম তুলে নেওয়ার কোনও ইচ্ছা নেই। তবে কিছু জায়গায় যানজটের জন্য ট্রাম তুলে দিতে হয়েছে। তবে সরকার কোনদিনই পুরোপুরি ট্রাম তুলে দেওয়ার কথা ভাবেনি।'
বর্তমানে ধর্মতলা-গড়িয়াহাট এবং বালিগঞ্জ-টালিগঞ্জ রুটে এটি চলছে। আগে শহরে ২৫ টি রুটে এ সেবাটি চালু ছিল। পরিবহণ দপ্ততর সূত্রে জানা যায়, ধর্মতলা-খিদিরপুর এবং ধর্মতলা-শ্যামবাজারের মধ্যে আবার ট্রাম চলাচল শুরু হতে পারে।
১৮৭৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারী একটি ঘোড়ায় টানা গাড়ি দিয়ে এটি প্রথম চালু করা হয়। শিয়ালদহ থেকে আর্মেনিয়ান ঘাট পর্যন্ত ৩.৯ কিলোমিটার পথে সেই ট্রাম চলে। পরে ১৮৮২ সালে এটির সঙ্গে বাষ্পীয় ইঞ্জিন যুক্ত করে আধুনিক করে তোলা হয়। আর ১৯০০ সালে প্রথম বিদ্যুৎ শক্তি ব্যবহার করে এটির আরও আধুনিকায়ন করা হয়। কালক্রমে যুগের চাহিদার সঙ্গে মিল রেখে ২০১৩ সালে শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত ট্রাম চালু করে সরকার।
এনবিএস/ওডে/সি