১৯ বছরের মেয়ে যেন পাঁচের শিশু, বিশ্বে আর মাত্র তিনজনের এমন বিরল অসুখ আছে

সারা বিশ্বে দানিয়া শাবিরকে নিয়ে চর্চা হচ্ছে। মেয়েটির ছবি ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই খবরের শিরোনামে দানিয়া। অনেকে দানিয়ার সঙ্গে ‘অরফ্যান’ (Orphan) সিনেমার এস্থারের মিল খুঁজে পেয়েছেন। রোমহর্ষক থ্রিলার অরফ্যান। সেখানেও দানিয়ার মতোই একটি মেয়ে এস্থার, যার বয়স ত্রিশ পেরোলেও দেখতে অবিকল ১০-১২ বছরের মেয়ের মতো। এই মেয়েটিকে (Rare Genetic Disorder) বাচ্চা মনে করে দত্তক নেওয়ার পর থেকেই একের পর এক সাঙ্ঘাতিক ঘটনা ঘটতে থাকে সেই পরিবারে। 
দানিয়া শাবিরের বয়স ১৯ বছর। কিন্তু দেখতে পাঁচ বছরের শিশুর মতো। এখনও মায়ের কোলেই থাকে সে। হাঁটাচলা বিশেষ করতে পারে না, হুইলচেয়ারই ভরসা। ওজন মাত্র ১৭ কিলোগ্রাম।

দানিয়ার মা আলেইশা আলমাহারি বলেছেন, তাঁর মেয়ে বিরল জিনের অসুখে ভুগছে। চিকিৎসার পরিভাষায় এই অসুখের নাম হাইপোপিটুইটারিজম (hypopituitarism)। একধরনের বামনত্ব রোগ যেখানে বয়স বাড়লেও মুখের গড়ন ও চেহারার ধরন বাচ্চার মতোই থাকে। ফলে দেখে বয়স বোঝা যায় না। কিন্তু এই ধরনের শিশুরা নানারকম শারীরিক সমস্যার মুখোমুখি হয়।
বামনত্ব (Dwarfism) হলো একটি হরমোনঘটিত রোগ, যা মূলত দেহে বৃদ্ধি হরমোনের অভাবে হয়ে থাকে। বৃদ্ধি হরমোন হচ্ছে একটি বিশেষ ধরনের হরমোন, যা শরীরের সব ধরনের কোষের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। এটি কোষ বিভাজনের মাত্রা বাড়িয়ে কোষকে সংখ্যায় এবং আকারে বৃদ্ধি করে। এই হরমোনের কারণেই মানুষ ছোট থেকে বড় হয়, মানুষের শরীর আকার-আয়তনে বৃদ্ধি পায়। কোনও কারণে যদি শরীরে পর্যাপ্ত বৃদ্ধি হরমোন উৎপন্ন হতে না পারে, তাহলে শরীরের বৃদ্ধি শ্লথ হয়ে আসে
 বৃদ্ধি হরমোন মাথার পেছনে অবস্থিত পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়। পিটুইটারি গ্রন্থির আছে দুটো ভাগ- অগ্র পিটুইটারি এবং পশ্চাৎ পিটুইটারি। গ্র পিটুইটারি থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ হরমোনের ক্ষরণ ঘটে থাকে। যেমন- এড্রেনোকর্টিকোট্রপিক হরমোন (ACTH), থাইরয়েড স্টিম্যুলেটিং হরমোন (TSH), ফলিকল স্টিম্যুলেটিং হরমোন (FSH) প্রভৃতি। শরীরের বৃদ্ধি পক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস। দ্ধি হরমোন নিঃসরণের ক্ষেত্রে হাইপোথ্যালামাসের বিশেষ ভূমিকা আছে। হাইপোথ্যালামাস থেকে গ্রোথ স্টিমুলেটিং হরমোন বের হয় পিট্যুইটারিকে উদ্দীপ্ত করে। ফলে পিট্যুটারি গ্রন্থি থেকে  বৃদ্ধি হরমোন নিঃসৃত হয়ে রক্তপ্রবাহে চলে আসে এবং লিভারে পৌঁছে আরও একটি হরমোন ইনসুলিন গ্রোথ ফ্যাক্টর-১ (Insulin like growth factor-1) ক্ষরণে উদ্দীপনা যোগায়। এই IGF-1 হরমোনটি প্রত্যক্ষভাবে হাড় এবং মাংসপেশির বৃদ্ধি ঘটায়। বৃদ্ধির গোটা প্রক্রিয়াটা খুব জটিল। যদি এর কোনও পর্যায়ে জটিলতা তৈরি হয় তাহলে পুরো প্রক্রিয়াটা বাধা পায়। পিট্যুইটারি গ্রন্থি থেকে যদি বৃদ্ধি হরমোন না বের হয় বা কম বের হয় তাহলে বামনত্ব রোগ হয়। দানিয়া এই রোগেই ভুগছে।
দানিয়ার পরিবার জানাচ্ছে, পরিবার পরিজনের কাছে তো বটেই, রাস্তাঘাটে, কোনও অনুষ্ঠানে দানিয়াকে নিয়ে গেলে সকলে হাসাহাসি করে। দানিয়ার মস্তিষ্কের বিকাশও ঠিকভাবে হয়নি। ডাক্তাররা বলছেন, বিশ্বে আর তিনজন ছেলের এই অসুখ আছে। দানিয়া নিয়ে যাতে হাস্য-কৌতুক না হয় সে জন্য সকলের কাছে অনুরোধ করেছেন তার মা আলেইশা।


খবর দ্য ওয়ালের/এনবিএস/২০২৩/একে

Walton Ads