দীর্ঘ দুই দশকের অপেক্ষার অবসান! বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বরিশাল আগমনকে ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠেছে দক্ষিণাঞ্চলের এই জেলা। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ঐতিহাসিক বেলস পার্ক মাঠে নির্বাচনী জনসভা শুরুর আগে থেকেই নেতাকর্মীদের ঢল নামতে শুরু করেছে। সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাঠ ও এর আশেপাশের এলাকা লোকারণ্যে পরিণত হয়েছে।

দলীয় রঙের বেলুন, ধানের শীষের প্রতীক, আর অসংখ্য ব্যানার-ফেস্টুনে সেজে উঠেছে পুরো বেলস পার্ক মাঠ। স্লোগান আর উৎসবের আমেজে জমজমাট পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সড়ক ও নৌপথে বরিশাল বিভাগের ছয়টি জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে জড়ো হচ্ছেন।

দুপুর ১২টায় এই জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তারেক রহমান। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, বরিশাল বিভাগের ২১টি সংসদীয় আসনের বিএনপি ও মিত্র জোটের প্রার্থীরাও এই সমাবেশে উপস্থিত থাকবেন।

ভোর থেকেই সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেন ভক্ত-সমর্থকরা। অনেকে ফজরের নামাজ আদায় করেই মাঠে চলে আসেন। এখানে নারী নেতাকর্মীদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো।

ঝালকাঠি থেকে আসা ছাত্রনেতা আসিফ আল ইমরান বলেন, "দীর্ঘদিন পর আমাদের নেতা বরিশালে আসছেন। তরুণদের মধ্যে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, আজকের এই জনসমাগমই তার প্রমাণ।"

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা থেকে সকাল ৫টায় নৌকায় চড়ে রওনা দিয়ে সমাবেশে যোগ দেন স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী মজিবর মোল্লা। তিনি বলেন, "কষ্ট হলেও কোনো অভিযোগ নেই। গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার আন্দোলনে আমরা সবাই মাঠে আছি।"

বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া এলাকা থেকে আসা মহিলা দলের কর্মী নাজমা বেগমের কথায়, "নারীরাও এই আন্দোলনের অংশ। শান্তিপূর্ণ ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা নিয়েই আমরা এসেছি।"

সমাবেশস্থলের প্রস্তুতিও বেশ নিখুঁত। মাঠের উত্তর পাশে বড় মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে, নারী নেতাকর্মীদের বসার জন্য রয়েছে আলাদা ব্যবস্থা। পুরো এলাকা ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণে সেজে উঠেছে।

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, "তারেক রহমানের বরিশাল আগমন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার বহিঃপ্রকাশ। গতকাল থেকেই মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি প্রমাণ করে, তারা পরিবর্তন ও গণতন্ত্র চায়।"

রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই বেলস পার্ক মাঠে সর্বশেষ ২০০৮ সালে নির্বাচনী জনসভা করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘ ১৬ বছর পর একই মাঠে তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

উল্লেখ্য, বরিশাল বিভাগের ২১টি আসনের মধ্যে বিএনপি দুটি আসন মিত্রদের ছেড়ে দিয়েছে। পটুয়াখালী-৪ আসনে গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর এবং ভোলা-১ আসনে বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পিরোজপুর ও পটুয়াখালীর কয়েকটি আসনে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের সঙ্গে বিএনপির মূল লড়াই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

news