যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে স্থল অভিযান চালানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি, বরং অজ্ঞাত সহযোগী বাহিনীকে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ খারগ দ্বীপ দখলের নির্দেশ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। মঙ্গলবার ফক্স নিউজের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি পরিস্থিতি উপযুক্ত মনে করলে স্থল অভিযান বিবেচনা করবেন এবং ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র খারগ দ্বীপে হামলা চালানো হয়েছে ইতিমধ্যে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরটি (RT) জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন তিনি ইরানের বিরুদ্ধে বোমাবর্ষণ ও অবকাঠামোতে আঘাতের পরিকল্পনা আরও জোরদার করার হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং সেতু ধ্বংস করার মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ বাড়ানো হবে যদি তারা আলোচনায় বসতে না চায়।

খারগ দ্বীপ, যা পারস্য উপসাগরের তীরে অবস্থিত এবং দেশের কাঁচা তেলের প্রায় ৯০% রপ্তানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ, ট্রাম্প আগেও এই দ্বীপ দখলের হুমকি দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, যদি প্রয়োজন হয় এবং ইরানকে যথেষ্ট দুর্বল করা যায়, তাহলে তারা এই দ্বীপ দখল করবে।

ট্রাম্প আরও জানান, ‘‘আমাদের অন্য সহযোগী বাহিনী রয়েছে যারা স্থল অভিযান চালাবে, তাই যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্যদের সরাসরি অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক নয়।’’ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা অব্যাহত রাখবেন যতক্ষণ না তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে পরিস্থিতি পর্যাপ্ত।

ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে ইরানে দুই হাজারের বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য। বিশেষ করে শাজারেহ তাইয়েবাহ স্কুলে হামলায় ১৬৮ জন, অধিকাংশই শিশু নিহত হন। যদিও ট্রাম্প এই হামলার দায় স্বীকার করেননি, তিনি স্বীকার করেছেন যে ‘‘ভুল হতে পারে’’।

এই খবরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ

ট্রাম্পের এই বক্তব্য ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও সামরিক নীতির কঠোরতা আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দেয়। ইরানের স্থল অভিযানের সম্ভাবনা এবং অবকাঠামোর ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে নতুন সংকট তৈরি করতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতাকে বিপন্ন করবে। এছাড়া, বেসামরিক হতাহতের আশঙ্কা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগ বাড়াবে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কূটনৈতিক সমাধান প্রয়োজন, যা সংঘাতের সম্ভাব্যতা কমিয়ে আনতে পারে।

Walton Ads